★মুউয়ার অর্থ খুঁজে দিশেহারা★
তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। বছরে দুবার নানা বাড়ি বেড়াতে যেতাম,আর একবার যেতাম দাদা বাড়ি। বিশেষ করে উইন্টারে যেতাম দাদা বাড়ি।আর গাছ পাঁকা আম,জাম,কাঁঠাল খেতে যেতাম নানা বাড়ি সামার ভ্যাকেশনে।শীতেও যেতাম,কারণ শীতে নানীর হাতের পিঠা আহা!
এমনিই এক গ্রীস্মের ছূটিতে গিয়েছি নানা বাড়ি।যখনিই যেতাম,কাজিনরা সহ যেতাম। তবে সেবার খালাতো বোনরা যায়নি।
শীতলক্ষ্যায় প্রতিদিন গোসল করতাম,সাঁতার জানতাম না শুধু ডুবাডুবি করতাম,পানির নিচে যতদূর মাটির নাগাল পেতাম,বাহাদুরিটা ছিল ঐ পর্যন্তই।দুই চোখলাল না হওয়া পর্যন্ত পানি থেকে উঠার নাম গন্ধ ও থাকতো না।দাদা বাড়ি গেলে গোসল হতো ধলেশ্বরীতে। তো যাইহোক,যেদিনের ঘটনাটা আজ জানাতে চাচ্ছি-
কাজিনরা না থাকায় আশে পাশের সমবয়সী নানী আর খালা বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে বের হলাম।তাদের একজনের নাম রহী সম্পর্কে নানী,আরেক জনের নাম আসমা বয়সে ছোট, সম্পর্কে খালা। আরেকজন আফরোজা আর সাথে আমার ছোট ভাই ছিল মি. ফোরকান। ও বয়সে অনেক ছোট ছিল। নানা বাড়ির পর একটা রাস্তা,এরপর চিকন লম্বা একটা কুলগাঙ,গাঙ পেরিয়ে বিরাট চর,আর চরের পর শীতলক্ষ্যা নদী।
তো আমরা চরে ঘুড়তে এলাম।চরে ছিল ধানী জমি, শরীষা ক্ষেত,সবজী, খালি জমিও ছিল অনেক। আমরা সন্ধ্যায় চড়ুইভাতি খেলবো তাই যেসব সবজি প্রয়োজন তা তুলে নিলাম। বলাবাহুল্য যে গন্ধর্বপুর গ্রামের এই বিরাট চরের একতৃতীয়াংশই ছিল আমার নানা বাড়ির জমিন।অর্থাৎ 'প্রধানবাড়ীর' আমার নানা বাড়ির নাম 'প্রধানবাড়ি।' প্রধানবাড়ির লোকেরাই এক সময় পুরো গ্রামের বিচার-আচার করতো ঐ গ্রামের মাথাছিল। এই কথাগুলে লিখার অর্থ হলো যাই তুলেছি নানাদের ক্ষেত থেকেই তুলেছি।
এবার আসি আসল কথায়, আমার ছোট্ট ভাইটির প্রকৃতির ডাক পেয়ে গেলো,আসমা ওকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো,পথিমধ্যে রাস্তার মোড় ঘুরিয়ে ওকে একটি খালি জমিতে কাজ সারিয়ে বালু চাঁপা দিয়ে নাড়কেলের খোল দিয়ে শীতলক্ষ্যা থেকে পানি তুলে এনে বদনার ব্যবহার সারালো।
আসলে এটাও আসল কথা নয়,এরপর আমরা শীতলক্ষ্যার তীরে এসে হাঁটতে হাঁটতে গল্প,হাসাহাসি করছিলাম। এমন সময় এমন একটি স্পীড ভ্যাসেল/ জলযানে করে কয়েকটি ছেলে আসছিল, ওরা আমাদের খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, আমাদের দেখে গান ধরলো, ঐয়ে ঐয়ে ওউয়া, এরপরের বাক্যটি ছিল ঐয়ে ঐয়ে মুউয়া মুউয়া। তখন মুয়া বা মুউয়া শব্দটির মিনিং জানতাম না। ২০১৭ তে 'পলটক' নামে একটি অ্যাপ ছিল আমার ডিভাইসে। সেখানে এক পাকিস্তানি আমাকে এই মুউয়া শব্দটি লিখেছিল কয়েকবার। আমি মুর্খের মত কিছুই বুঝলাম না।আমার তিন ছেলেমেয়ে কে ডেকে বল্লাম, তোমরা তিনজনই তো ভালো হিন্দি বোঝো দেখো তো এই পাকিস্তানি আমাকে এই মুয়াটুয়া কি লিখছে এসব! আমার বাচ্চারা আমারে যাহা সুধাইলো,তাহা শুনিয়া আমার তো চক্ষুচড়ক গাছ।ওরা হাসিতে হাসিতে লুটাইয়া পড়িতেছিল।
আর বলিতেছিল, আম্মু তুমি এটা ও জানো না, মুউয়া হলো পাপ্পী পাপ্পী। আমি তখন হাসমু না কানমু কিছুই বুঝিতে পাড়িতেছিলাম না। তরপরও কিছু না বুঝিয়াই আমিও হাসিতে শুরু করিলাম।😂😂😂
আমার মনে পড়িয়া গেল এই শব্দটি তো অষ্টম শ্রেণীতে থাকাকালীন প্রথম শুনিয়াছিলাম।যাই হোক এবার আসল কথাটা বলেই ফেলি,যার জন্য এত কিচ্ছা!
এরপর আমাদের কোনো রিঅ্যাকশন না দেখে আবার গান ধরলো ছেলেগুলো,বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, আসি আসি বলে জোসনা দূরে থেকেছে।
তো আমার বান্ধবীরা আমাকে বল্লো,বল বল তুই কিছু বল। আমি বল্লাম,আ'ম আ ডিসকো ড্যান্সার এবং গানের ডাথে ড্যান্স। ড্যান্স দেখে ওরাও শুরু করলো। ঝপাং করে শব্দ শুনে ড্যান্স বন্ধ করে ফিরে তাকালাম,দেখলাম,একজন উল্টে গেছে,ওকে যে ধরেছিল সে ও এরপর বাকি দুজন ইচ্ছে করে লাফ দিয়েছে। ততক্ষণে জলযানটি ওদের ছেড়ে অনেকদূর সামনে এগিয়ে গেছে।
ছেলে গুলো পানিতে গান গাইতে গাইতে কিছুক্ষণ ঝাপাঝাপি করে তীরের দিকে অর্থাৎ যেখানে আমারা ছিলাম সেখানে সাঁতরে আসতে লাগলো। ওদের আসতে দেখে আমরা সবাই পড়িমরি করে দৌড়,যার হাতে যা ছিল ফেলে,সবজি ফেলে,পায়ের জুতা ফেলে ছেলে গুলো তীরে ওঠবার পূর্বেই,এক নি:শ্বাসে বিরাট এক চর দৌড়ে পাড়ি দিয়েছিলাম সেইদিন। 😫😫😫
ঘটনা: ১৯৯৪ইং
লেখা: ১৯.১০.২০২০
Comments
Post a Comment