★অন্য মনস্ক ভাবনা কাজে বিপত্তিই ঘটায় না দায়িত্বেও ব্যঘাত ঘটায়★

>এগারোটায় কোর্টে ঢুকলাম। ১.৩০ মি. ডিসি অফিসে গেলাম। রেলওয়ে একোয়ারকৃত ভূমি হুকুম দখলের বরাদ্দকৃত (চল্লিশ লক্ষ) অর্থ স্থগিত আবেদন করেছিলাম এলএ তে (Land Acquisition Office). 

>এডিসির (পারভেজ)সাথে দেখা করলাম। খুবই ভদ্রতার সাথে আমাকে বসিয়ে land Acquisition Officer  আকলিমা আক্তার কে ডেকে দায়িত্ব দিলেন খোঁজ নিয়ে উক্ত বিষয়ে আমাকে জানাতে। আমি ২.৫০মি.চেম্বারে ফিরে এলাম।

>৪.১৮মিনিটে এল.এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নামের একজন আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলো, আমি কি জানতে চাই?  মূলত ৮৬ শতাংশের প্রায় ২৬ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করেছে আর ৮৬ শতাংশ সহ প্রায় ২২৫ শতাংশ নিয়ে দেওয়ানী মামলা চলছে। এতদসত্ত্বেও এই টাকা sanction হয়ে গেলো। এই কথা শুনে তো আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো। আমি মিজানুর রহমানের সাথে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। আমি অভিযোগ দিয়ে আসার পরও এই টাকা sanction হয় কীভাবে? কে করেছে? তার নাম কী? আমার উচ্চ কন্ঠে একসাথে এত প্রশ্ন শুনে বেচারী চুপমেরে গেলো। 

আচ্ছা  আপনার নাম কী বলেন। সে আমতা আমতা করে বললো, মিজানুর রহমান। ঠিক আছে আমি ফ্রি হয়ে আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি। বলে ফোন রেখে দিলাম।

> আমি লাইন কেটে আকলিমা আক্তার কে ফোন দিলাম তিনি বল্লেন, আপা আপনি আপনার অভিযোগ ডিসি বরাবর লিখিত ভাবে করেন আমরা আপনার ফাইলটা রিওপেন করে দেখবো কিভাবে টাকা sanction হলো।আমি তার সাথেও রাগারাগি করলাম বল্লাম, আমি ফাইল ক্লোজ করিনি আর আপনি রিওপেন করবেন? উনি বললেন,ম্যাডাম, আপনি আগামীকাল সমস্ত পেপারস আর ডিসি বরাবর একটি অভিযোগ পত্র নিয়ে আসেন প্লিজ।আমি রাগে ফোন রেখে দিলাম। 

>কোর্ট থেকে বের হয়ে কারওয়ান বাজার চলে এলাম দু'টো ট্যাক্স ফাইল নিয়ে রফিক ভাইয়ের সাথে কথা বলে চলে এলাম । সারাদিন এমনিতেই মেজাজ খারাপ ছিল তার উপর ঘটলো আরেক বিপত্তি। নীলক্ষেত যাওয়ার জন্য বাইকে উঠলাম।পেট্রোবাংলা বরাবর রাস্তা ক্রস করার সময় দেখলাম,ট্রাফিক পুলিশ একজনকে ধমক দিয়ে বলছে বাচ্চার গায়ে জামা কই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। 

>আমি এতই অন্যমনস্ক ছিলাম পুলিশের ধমকে সম্বিৎ ফিরে পেলাম।আমার ঠিক পাশের বাইকেই একজন চিকনা লোক,দেখতে হিরোইনচির মত,কদাকার,কালো কলারের গেঞ্জি বা ফতুয়া গায়ে। তার কোলে একটা চার/পাঁচ মাসের শিশু বাচ্চা সেন্টু গেঞ্জি গায়, বাচ্চাটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। আমার বোধদয় হতেই আমি বল্লাম, এই বাচ্চা কার? এই বাচ্চার মা কোথায়?  

ছেলেটি বললো, আমি ওর ভাই। আমি চিৎকার করে বল্লাম,এই বাচ্চার মা কোথায়? ছেলেটি বললো,আরেকটি বাইকে আছে। আমি বল্লাম, আরেকটি বাইকে আছে মানে? তার মা আলাদা কেনো? ছেলেটি বললো, ওর মায়ের কাছে আরেকটি বাচ্চা আছে। আমি বল্লাম, তাহলে ওর মায়ের মোবাইল নাম্বার  দাও, আমি কথা বলে শিওর হবো। ছেলেটা বললো, ওর মায়ের ফোন নাম্বার নেই,ফোন ব্যবহার করে না। এই বাংলাদেশে কি এমন লোক আছে যে ফোন ব্যবহার করে না। ছেলেটা বললো, আছে তাহলে আপনি জানেন না। আমি একটু রেগে গেলাম। ছেলেটা চিৎকার দিয়ে বললো, আমি ওর ভাই।আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি ল' পড়তাছি। আমার সন্দেহ বেড়ে গেলো। এমন সময় জ্যাম ছেড়ে দেওয়ায় ওদের হোন্ডা আমাদের পাস করে সামনে চলে গেলো। আমি আমাদের হোন্ডার স্পীড বাড়াতে বল্লাম। একটু সামনে আসতেই আবার ধরলাম। বাইক রাইডার বললো আপা আপনি খামোখা সন্দেহ করতেছেন, ওর মা আছে আরেক বাইকে। আশে পাশের লোকেরা বললো, আপনি কি শিওর? ব্যাটা বলল, হ্যাঁ।আমার সন্দেহ আরও তিনগুন বেড়ে গেলো। আমি বল্লাম, আপনি নিজেও ফ্রট! আপনিও জড়িত।  এই বাচ্চার মা কোথায় বলেন। এই তর্কাতর্কির মাঝে শিশু বাচ্চাটি চোখ মেলে তাকালো খুবই অসহায়  ভাবে। বাচ্চাটি উজ্জ্বল ফর্সা কিন্তু ধবধবে সাদা নয়। গোলগাল। বড়সড় গোল চোখ। বাচ্চাটি নিথর হয়ে পড়েছিল।হয়ত চেতনা নাশক পুশ করেছিল।

>আমি বললাম, ওর মা কোথায় আমাকে নিয়ে চলো, তারা বললো,আচ্ছা আমাদের সাথে  আসেন। এমন সময় আবার জ্যাম ছুটতেই তারা এমন স্পীডে টান দিলো যে আমরা মুহুর্তের মধ্যে তাদের হারিয়ে ফেললাম। আমি আমার বাইকার কে ইচ্ছে মত বকা দিলাম। এরপর নীলক্ষেত  নেমে ৯৯৯ এ ফোন দিলাম।

> তারা হোন্ডার নাম্বার  জানতে চাইলো। আমি বললাম, নাম্বার নিতে পারিনি,  ল্যাম্প পোস্টের পর্যাপ্ত আলো ছিলো না। মূলত আমার নাম্বারটা নিতে মনেই ছিলো না।  তবুও আমি আইডিয়া করে বল্লাম, দেখুন তারা বেশি দূর এখনো যেতে পারেনি।হয়তো পরিবাগ দিয়ে রমনাপার্ক হয়ে কাকরাইল, অথবা শাহ্বাগ দিয়ে মৎস ভবন কিংবা কাঁটাবন দিয়ে নিউমার্কেট বা সাইন্স ল্যাবের দিকে চলে গেছে। তবে নিশ্চিত পরিবাগ দিয়েই ঢুকেছে।

>তারা জানালো,এভাবে তো আাসামী ট্রিট করা যাবে না। যদি কাকরাইল দিয়ে যায় তবে রমনা থানা,যদি মৎস ভবন দিয়ে যায় তবে শাহবাগ থানা আর কাঁটাবন দিয়ে গেলে নিউমার্কেট থানা হবে। অবশেষে তারা আমাকে রমনা থানার সাথে ধরিয়ে দিলো। আমি বিস্তারিত বলার পর তারা আমার নাম, পরিচয় নিয়ে রেখে দিলে। তারা কতটুকু গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করলো আমি কিন্তু ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কিছুই আঁচ করতে পারলাম না। নীলক্ষেত একটি কাজে এসেছিলাম। সব ফেলে আবার স্ব শরীরে রমনা থানায় চলে এলাম। তারা আবারও বিস্তারিত জেনে আমার নাম, ঠিকানা, পরিচয় নিয়ে, আমাকে পুরোপুরি  আস্বস্ত করে বাসায় পাঠিয়ে দিলো।

আমি বের হওয়ার আগে আবার তাদের রিমাইন্ডার দিলাম বল্লাম, আমি আমার দায়িত্ব মনে করে এতটা করেছি, এটা আপনাদেরও নৈতিক দায়িত্ব। এবং লাস্টলি আমি রিকোয়েস্ট করে এলাম, তারা যেন দায়িত্বে অবহেলা না করে।

>তারা আমকে যতই আস্বস্ত করুক, আমি কি সত্যি আস্বস্ত হতে পেরেছি?  পুলিশ কি আসলেই আমাদের এতটা বিশ্বস্ত জায়গাটায় আছে?তবে আমি অবশ্যই আবার গিয়ে জেনে আসবো।

>আমি জানিনা কোন মায়ের বুকটা খালি করে নিয়ে গেছে এই চোরাই দল। আমি যদি আরেকটু সিরিয়াসলি বিষয়টি তখনই মাথায় নিতে পারতাম! তাহলে বাচ্চা টিকে তখনই ওদের কাছ থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে নিতাম। আমি অন্য মনোস্ক থাকায় তাৎক্ষণিক বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে পারিনি। এই ব্যর্থতাকে ক্ষমা করতে পারবো আমি!


-লিমা।

১৮.০৯২০২৩

Comments