★মালয়েশিয়া ভ্রমন★
##সব গুছগাছ করতে বেশ রাত হয়ে গেল।রাতে একদমই ঘুম হলো না। ৬ই মার্চ ২০২৩ ইং সারে পাঁচটায় উঠে ঘরবাসা গুছিয়ে ৮.৩০ বের হয়ে গেলাম। এয়ারপোর্ট পৌঁছালাম ৯.৩০ মিনিট। এয়ারপোর্টে এসে নাস্তা কিনে খেলাম। যদিও বিসনেস ক্লাস এয়ার টিকেট হওয়ায় EBL LOUNGE এ খাবার ফ্রি ছিলো।
> রো-ই তে বোডিং পাস নিয়ে Check-in E01-E06 এ ল্যাগেজ পাঠিয়ে ফার্স্ট ইমিগ্রেশনে চলে এলাম। ইমিগ্রেশন শেষ হতে বারোটা বেজে গেলো। ইমিগ্রেশন শেষে বিমানে উঠতে আরও কিছু সময় ব্যয় হলো। কারণ ডিপার্চার গেইট 10 এ ছোট্ট লাইনে দাঁড়িয়ে জুতো,ব্যাগ,মোবাইল স্ক্যান করতে হলো।সারে বারোটায় বিমানে ঢুকলাম।মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস বোর্ডিংপাস বিসনেস ক্লাস MH0103 এয়ার ফ্লাইট হওয়ায় ইমিগ্রেশন বিলডিং থেকে সরাসরি বিমানে ঢুকে গেলাম। ইমিগ্রেশন বিলডিং থেকে বের হয়ে, বিমানের সিঁড়ি বেয়ে বিমানে উঠতে হলো না। যদিও সিঁড়ি বেয়ে উঠানামার মধ্যে অন্য রকম আনন্দ ফিল হয়।এই আনন্দ থেকে কিঞ্চিৎ বঞ্চিত হলাম।কারণ বিমানে উঠার পর মনে হলো এক রুম থেকে আরেক রুমে প্রবেশ করলাম।
> বোডিং পাস দেখে সীট বের করে বসতে গিয়ে দেখলাম,আমার সীট মিডল রো-তে। আমাদের তিনজনের যথাক্রমে 5G,,5G আর একজনের লাস্ট রো-তে সীট হলো 5D।মিডল রো-তে দুটো করে সীট। লাস্ট রো-তে/ডানপাশের রো-তেও দুটো সীট। বাম পাশের রো তে সীট একটি। এই সীটটির যাত্রী শুন্য হওয়ায় আমি এখানেই বসলাম। বিমানের জানালায়, মেঘেদের খেলা দেখলাম। বেশ চমৎকৃত হলাম! আমার পেছনের সীটটি ও যাত্রী শুন্য হওয়ায় আমার ছেলে সেই সীটটি তার দখলে নিল। আমার ছেলেকে বল্লাম, মেঘ সব সময় আমাদের মাথার উপর থাকে আর এখন আমরা মেঘেদের থেকে অনেক উপরে অবস্থান করছি। বিবান ফ্লাই করার সময় ছেলে ভয় পাবেকিনা ভেবেছিলাম কারণ এটি ওর প্রথম বিমানে চড়া। কিন্তু আমার ছেলে বেশ ইনজয় করলো বিমানে। নিজের সীট বেল্টটি কারো সাহায্য ছাড়া নিজেই বেঁধে নিলো।প্রায় একঘন্টার মত রানওয়েতে বিমান থাকার পর,১.২৩ মিনিটে ফ্লাই করলো।
এয়ারহোস্টেজ আমাদের চিকেন ও মাটন স্টিকবল সাথে মুগডাল ভুনা দিলো এবং অরেঞ্জ /এপেল জুস।আমি মাঝে মাঝেই বাইরে তাকিয়ে মেঘেদের খেলা দেখলাম। সমনের স্ক্রিনে টাচ্ করতেই হোম পেইজে এলো এন্টারটেইনমেন্ট, ফ্লাইট ইনফরমেশন,রিড,
আমি দেখে নিলাম,ঢাকা টু কুয়ালালামপুরের ফ্লাইট ইনফরমেশন। ডিসটেন্স ফ্রম ডিপার্চার,টাইম টু ডেসটিনেশন,Ground speed,distance traveled,head Wind ইত্যাদি দেখে নিয়ে,নামাজের ওযু করতে ওয়াশ রুমে গেলাম।পানি ইউজের ব্যবস্থা নেই। টিস্যু ভিজিয়ে পানির কাজ সেরে নিলাম।এরপর ওযু করে বেরিয়ে এলাম।কিছুক্ষণের মধ্যে লাঞ্চ চলে এলো। দু টাইপ লাঞ্চ।একটি চিকেন অন্যটি মাটন।যার যেটা পছন্দ। আমি নিলাম চিকেন উইথ রাইস,ফিস কাবাব,সস,বাটার কেক,সবজি সালাদ।মাটনের সাথেও এসবই ছিল।জুস এবং চা কফিও ছিলো।
> কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট টার্মিনাল ১ এ পৌছালাম বাংলাদেশ টাইম ৫টায় আর লোকাল টাইম সন্ধ্যা ৭টায়। বাংলাদেশ বিমানবন্দরের মতই এই এয়ারপোর্টেও বিমান থেকে সরাসরি টার্মিনাল ১ স্যাটেলাইট বিল্ডিং এ প্রবেশ করলাম। স্যাটেলাইট বিল্ডিং থেকে বাসে করে ইমিগ্রেশন বিল্ডিং এলাম।
> ইমিগ্রেশন প্রসেস শেষে ট্যাক্সি করে পানডাম জায়া,কুয়ালালামপুর (Tealive, pandan jaya),public bang er pashe এক দেবরের বাসায় উঠলাম। তার আগে মামা কেডাই/ কেন্টিন এ খেলাম।দেবরই সব বিল পে করলো।পুরো মালয়েশিয়া জুড়ে এই কেন্টিন রয়েছে।কারণ এখানে ইন্ডিয়ান, থাই,চাইনিজ, বাংলা এবং পুরি, পিঠা,ফাস্টফুড বেকারী আইটেম সহ প্রায় সব খাবারই হয়।এই কেন্টিন গুলো ইন্ডিয়ান তামিল মুসলিমরা পরিচালনা করে।এখানে এই কেন্টিন গুলো মামা কেডাই নামেই সর্বধিক পরিচিত।অবশ্য প্রত্যেকটি আলাদা নিজস্ব নাম রয়েছে। যেমন:নাসাপুর,আলরাজি। মালয়েশিয়ার গভঃ থেকে এর লাইসেন্স নিয়ে করতে হয়।যাই হোক আমরা রাতে খেলাম,আপেল জুস, পলি প্যাক ভরে এক পাশে বেঁধে অন্য পাশে স্ট্র দিয়ে সার্ভ করলো।এরপর খেলাম ''নাসি গরিং থাই', এটি রাইস আইটেম।অনেকটা ফ্রাইড রাইসের মত।রাইসের উপরে একটি ভাজা ডিম, পাশে গাঁজর,ফুল কপি,বরবটি, খুবই পাতলা ছোট্ট ছোট্ট করে কাটা চিকেন,মীট কয়েক টুকরা,একটি বা দুইটি চিংড়ি, খুবই স্মল সাইজ একটি অক্টোপাস নিয়ে মিক্সড ফ্রাই। এবার পান করলাম,তে তারে /দুধ চা।
##২য় দিন,০৭.০৩.২০২৩ ইং,ঘুম থেকে উঠে দেবরের বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম TBS (Tarminal Barsepado Selatan) এখান থেকে পাসপোর্ট দেখিয়ে KKKL EXPRESS টিকিট কেটে উপরে উঠে
ডিপার্চার লবি পিন্টু গেইট ১৪ পেয়ে গেলাম এরপর একটু সামনেই চলন্ত ইলেক্ট্রিক সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে L2 দিয়ে সোজা গিয়ে ডানে Departure Gate 14 দিকে এগুলাম। Seating zone এসে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। সীট এর পিছনে লিখা zone keutamaan. মালে ভাষার এই শব্দটির উচ্চারণ ঠিক না করতে পারলেও এর অর্থ কি জানতে মন অগ্রহী হলো।দেরি না করে গুগলে সার্চ দিতেই যে অর্থ দেখালো,তা হলো অগ্রাধিকার জোন। সীটের পিছনে আরো লেখা ছিলো,প্লিজ অফার ইউর সীট ইফ সামওয়ান নিড ইট মোর দ্যান ইউ।pintu gate 14 তে কিছুক্ষণের মধ্যেই KKKL EXPRESS এসে দাঁড়ালো। আমরা বাসে উঠে সীট খুঁজে বসে পড়লাম। আমাদের গন্তব্য হলো TBS বাস স্ট্যাশন থেকে Penang . যেতে যেতে মালয়েশিয়ার প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলাম অনেক্ক্ষণ! গাড়ি একবার মধ্যে বিরতি টানলো, যে যায়গাটায় এটা একটা ছোট পার্কের মত, একটি নামাজের স্হান ও ওয়াশরুম আছে।সবাই নেমে যে যার কাজ সেরে নিলো। জায়গাটার নাম সম্ভবত lebuhraya utara selatan,matang perak.
> গাড়ি যখন টার্মিনাল বাস এক্সপ্রেস সাংগাই নিবং এর KETIBAAN ARRIVAL PLATFORM এসে পৌছালো তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাগরিবের আযান হলো। আমরা KAMPUNG SUNGAI NIBONG থেকে YC Kelawei Station এর উদ্দেশ্যে GrabApp এ গাড়ি কল করে উঠে বসলাম।
YC Kelawei Station পাম্পে আছে রিপন ভাইয়ের বিশাল সপ' অবশ্য ভাই এখানে চাকরী করে।সপে রেস্ট নিলাম কিছুক্ষণ। জুস,স্ন্যাক্স,কফি নিলাম।অনেকেই এলো আমাদের সাথে দেখা করতে। ওরা সবাই আকাশের পরিচিত এবং বাঙালি।এদের মাঝে একজন আশরাফ ভাই,সে তার গাড়ি করে আমাদেরকে মোটামুটি পুরো প্যানাং শহরটা দেখালো।দ্যা জর্জ বিল্ডিং, Them park, ইত্যাদি। এরপর jalan phee choon,gourge town এর দ্যা জর্জ বিল্ডিংয়ের অপর পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খেলাম।খাওয়ার পর চলে এলাম প্যানাং সাগর দেখতে।জায়গাটার নাম সম্ভবত Jalan Tun Syed Sheh Barakbah মূলত এটি প্যানাং এর কোস্টাল রোড। যেহেতু মালে শব্দগুলো উচ্চারণ করতে অসুবিধে হচ্ছে তাই ইংরেজিতেই লিখছি।এখানে অনেক মানুষ, কেউ হাওয়া খাচ্ছে, কেউ ঘুরছে, কেউ মিউজিক বাজাচ্ছে,কেউ মেসেস করাচ্ছে। তখন ঘড়ির কাঁটায় ন'টা উনচল্লিশ মিনিট। পানডা জায়া,কুয়ালালামপুর থেকে সাত ঘন্টা জার্ণিকরে এলেও ক্লান্তি তখনো স্পর্শ করেনি। কারণ সাগর পাড়ের হাওয়ায় দেহ মন আরও সতেজ হয়ে উঠেছে। বাইরে খাওয়া, ঘুরা শেষ করে মিডল্যান্ডস কুন্ডু অর্থাৎ রিপন ভাইয়ের বাসায়ই উঠলাম। MIDLANDS CONDO Guard House অবশ্য বাসাটির নাম। আর যায়গার নাম সম্ভবত persiaran Midlands.
মূলত পুরোটা হলো জর্জ টাউন,প্যানাং শহর।যাইহোক অতঃপর ফ্রেশ হয়ে এক ঘুমে রাত্রি পাড় করলাম।
##৩য়দিন, ০৮.০৩.২০২৩ ইং। যে রুমটিতে ঘুমালাম, এর বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখা যায়। আজ প্যানাংহিল যাবো। তৈরী হয়ে বারান্দায় কয়েকটি ফটো তুল্লাম।বের হয়ে বাসার নিচে রাস্তায় ফটো নিলাম।এবং গাড়ি কল করে প্যানাং হিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। পাহাড়ে উঠে উপভোগ করলাম,বিশাল সবুজের সমারোহ,বাতাসের শব্দ।
> এলোমেলো ভাবে মনে পড়ে গেল জীবন আনন্দের কবিতার কয়েকটি লাইন- বাতাসের শব্দ এসে কিছুক্ষণ হরিতকী গাছের শাখায় মিথিরিত হয়ে থেমে যায়,ভেবে চেয়ে দেখি: পাখি,রৌদ্র, ঘাস।
> সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কিছু লেখা মনকে আন্দোলিত করে গেলো-অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।যদি তার দেখা পেতাম,দামের জন্য আটকাতো না।আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।
ঋতুর বৈচিত্রতায় অপরূপ সাজে প্রকৃতির যে সাজ তা পাহাড়ে উঠে উপভোগের সুযোগটিকে সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়ে নিলাম।চারদিকে অতুলস্পর্শী শীতল ছায়ায় আর সবুজের অমৃত স্পর্শ ছোঁয়ায় নিজেকে সতেজ করে নিলাম কয়েক ঘন্টার জন্য।বিশুদ্ধ অক্সিজেনের অণুকনায় ভরে নিলাম ফুসফুস। পাহাড়ি চির সবুজের প্রান্ত সীমায় হারিয়ে গেলাম বেশ অনেকক্ষণ। পাহাড় ও প্রকৃতির মহা সৌন্দর্য অবলোকনের পর যখন বের হলাম প্রায় ৭টা বেজে গেছে। ওখান থেকে এক ভাইয়ে দাওয়াতে GURNEY PARAGON MALL চলে এলাম।
SALAON DU CHOCOLATE এ চাকুরি করে অনেক বছর যাবৎ। ও আমাদেরকে জুুস,চকোলেট আইসক্রিম,চকোলেট কেক এবং অনেক আইটেম চকোলেট দিয়ে আপ্যায়ন করলো।
## ০৯.০৩.২০২৩. ৪র্থ দিন।আজ সারাদিন বাসায় কাটিয়ে বিকেল বেলা বের হলাম।বাতু ফিরিঙ্গি বীচ্ এলাম। এখানে বীচের কাছে টেবিল পাতা রয়েছে। এখানে মিনিমাম স্প্যান্ডিং টাইম ৫০ টাকা।আমরা একটি টেবিলে বসলাম। রাতের বীচ অপূর্ব!
এখানে পাশেই কেউ গান করছে, কেউ প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শিখা দিয়ে বিভিন্ন শারীরিক কসরত করে ভ্রমন পিয়াসী অতিথিদের আনন্দ বিতরণ করছে। কেউ টেবিলে খাবার, পানি, পানীও, হার্ড ড্রিংক্স সার্ভ করছে। আমরা কোমল পানি পান করতে করতে দেখলাম আগুনের লেলিহান শিখার খেলা। আগুন দিয়ে তারা বিভিন্ন আকার আকৃতি বা ডিজাইন বনাচ্ছে। হাতে নিয়ে অনেক উপরে ছুরে মারছে।আবার নিচে নামতেই হাতে নিচ্ছে। আগুনের বৃত্তের ভেতরে জাম্প দিচ্ছে। মিউজিকের তালে তালে কিছু লোক এগুলো করে সমুদ্রে বেরাতে আসা ভ্রমন পিয়াসুদের বাহবা কুড়াচ্ছে।
মনে হলো সমুদ্রে এসে পা না ভিজালে অতৃপ্তি থেকে যাবে। তাই উঠে কিছু দূর যাওয়ার পর বালিতে বারবার পা ডুবে যাওয়ায় সেখানেই দাঁড়িয়ে কতগলো ফটো তুলে ফিয়ে এলাম।
ক্ষুধার উত্তেজনা পেটের ভেতর নাড়া দিলো কারণ সময় কম হয়নি। সারে পাঁচটায় বাসা থেকে বের হয়ে রওয়ানা দিয়েছি। প্রায় আটটা বেজে গেছে। বালুময় বীচের সামনে থেকে বেরিয়ে এলাম। বীচে ঢুকতেই বেশ কয়েটি খাবার রেস্তোরাঁ ছিল,তার একটিতে ঢুকলাম,খেলাম। ভেতরে একপাশে দোলনা ছিল ওখানে বসে ফটো তুল্লাম। অন্য পাশে মূর্তি এবং অন্যান্য দিয়ে সজ্জিত ছিল। ওখান থেকে বের হওয়ার পর ছাতাওয়ালা দুই চাকার রিকশায় উঠাম।অবশেষে আকাশের পরিচিত একজনের সাথে দেখা করতে আমরা এলাম, jalan kelawai, George town,
pulau,pinang.
> এখানে tapak penjaja anjung gurney বা গার্ণি ড্রাইভ হকার মার্কেটে ঢুকলাম। উপরে খোলা আকাশ, মাঝে অনেক গুলো টেবিল পাতা রয়েছে, চারপাশে রয়েছে দোকান সমূহ। দোকানের সামনে সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছ, বড় চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক,ঝিনুক, অক্টোপাস সহ ঝুলিয়ে বা সামনে বড় বড় ডিসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
অনেক মানুষ সেখানে বসে, যারা জায়গা পাচ্ছে না তারা দাঁড়িয়ে, কেউ কাঁচা আবার কেউ বয়েল কিংবা ফ্রাই অর্ডার দিয়ে খাচ্ছে। আমারদের দেখে এক মালায়েশিয়ান বয় এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলো কি খাবো? আমরা কোনটা কি প্রাইস প্রাইস জানতে চাইলাম। তখন সে জিজ্ঞসা করলো আমরা কোথা থেকে গিয়েছি। বল্লাম,বাংলাদেশ। সে তখন ভিতরে গিয়ে একজন বাঙালি বয়কে পাঠিয়ে দিলো। পুরো মালয়েশিয়া রয়েছে বাংলাদেশের লোক। যেখানই গিয়ছি বাঙালির দেখা পেতে বেগ পেতে হয়নি। আমরা শামুক আর অক্টোপাসের অর্ডার দিলাম।
দুই প্লেট পঞ্চাশ টাকা। যেহেতু আগে আর খাইনি তাই কেমন লাগবে আগে টেস্ট করতে অল্প করেই
বয়েল উইথ মশলা দিয়ে অর্ডার দিলাম। শামুক খুলে খাওয়ার অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। আমি খুলতে পারছিলাম না তাই আকাশ খুলে দিলো। আমার ছেলে খেয়ে মজা পেল। আমার কাছেও দারুণ লেগেছিলো।
আমাদের এনজয় করে খেতে দেখে ছেলেটি জানালো,
বাংলাদেশ থেকে যারা আসে তারা নাকি এগুলো খায় না।
> রাতেই কুয়ালালামপুর যাওয়ার টিকেট কাটা হয়েগিয়েছিল বিধায় আর অর্ডার দিতে পারলাম না। দ্রুত বাসায় ফিরে, সব কিছু গুছানোই ছিল রিপন ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, গ্র্যাপে কল করে lebuh noordin, George town এর praning mall
বাস টার্মিনালে চলে এলাম। ন'টা উনপঞ্চাশ এ Billion Stars Express এ ঢুকে সীট দেখে বসে পড়লাম।লাক্সারি গাড়ি। ভিতরে বেশ আলিশান। একপাশে ডাবল সীট, আরেক পাশে একজনের সীট। আমরা তিনজন বরাবর বসলাম। মা-ছেলে ডবল সীটে আর আকাশ একজনের সীটে। আসার সময় রিপন ভাই চিপস,বিস্কুট, স্ন্যাক্স দিয়ে দিয়েছিল। ভাই অসম্ভব ভালো মানুষ। যে ক'দিন ছিলম তার বাসায় থাকা এবং খাওয়া দাওয়া করেছি।
সীটের সামনে বিমানের মত স্ক্রিন ছিল। স্ক্রিনে টাচ্ করতেই গেমস,মুভি, মিউজিক সামনে এলো। সীটে বসে আমি চিপস খুলে বসলাম আর ছেলে গেমস।প্রায় রাত দশটা বেজে চলছে।
# ১০.০৩.২০২৪ ইং তারিখ,শুক্রবার রাত ৩.৩০মিনিট
TBS motor park 5th floor এ গাড়ি এসে দাঁড়ালো। আমরা গাড়ি থেকে নেমে MAIN LOBBY দিয়ে উপরে উঠে TBS Link Bridge এ দাঁড়িয়ে পুরো স্টেশন বা টার্মিনাল ভিডিও করলাম আর ভাবলাম, একটি এয়ারপোর্ট থেকেও কম নয়নাভিরাম নয়।আমরা TBS LRT Station এর দিকে এগুলাম। এখানে Bandar Tasik Selatan বা দক্ষিণ লেক সিটির চার্ট দেয়া আছে। আছে ডান পাশে কাস্টমার সার্ভিস অফিস। আকাশ চার্টে গন্তব্য দেখে নিয়ে টিকেট এবং রিসিট সংগ্রহের জন্য মেশিনের ভিতরে টাকা বা কয়েন দিয়ে রেপিডকেএল কয়েন নিলো এটি ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম’ এ পাঞ্চ করে আমরা Bandar Tasik Selatan Platform এ এসে রেপিডকেএল ইলেকট্রিক ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।চারটা আটত্রিশ এ ট্রেনে ঢুকলাম।
> Bukit Bintang এসে আমরা Hotel Rae এ উঠলাম। যখন টিবিএস স্টেশন ত্যাগ করলাম তখন প্রায় পাঁচটা বেজে গেলো।ফ্রেশ হয়ে এক লম্বা ও আরামদায়ক ঘুম দিলাম।
ঘুম থেকে উঠলাম,বিকেল নাগাদ। নিচে নেমে লাঞ্চ করে কোতারায়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। ওখানে আকাশের অনেক পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধব আছে।আমরা প্রথমে গেলাম জালান সুলতান,সিটি সেন্টার, কুয়ালালামপুর। কুয়ালালামপুর যে দেবরের বাসায় উঠেছিলাম, ওর ছোট ভাইয়ের সাথে আরেকজন লোকছিল। আমরা একটা কেএফসিতে বসলাম,খেলাম আড্ডা দিলাম অনেকক্ষণ। এরপর আশেপাশে একটু ঘুরে দেখলাম। mydin এর সমানে এসে দাঁড়ালাম, তখন ওখানে এক ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। ভাই আমাদের ইনভাইট করলো তাদের সাথে ডিনার করতে। কিন্তু আমার মনে হলো ডিনারে গেলে রাতের কুয়ালালামপুর দেখা হবে না।তাই পরেরদিন, লাঞ্চ এবং সারাদিন একসাথে ঘুরার কথা দিয়ে বিদায় নিলাম। আমরা Bukit Bintang চলে এলাম। আমরা যে হোটেলে উঠছি এর আশেপাশে ঘুরলাম।আমাদের সাথে ছোট দেবরও ছিল। Bukit Ceylon এলাম। ভিআইপি পিঠা ঘরের অপর পাশে আখের রস খেলাম। একজন বাঙালি ও তিনজন মালয়েশিয়ানের সাথে পরিচয় হলো। এদের মাঝে দুজন মালে মহিলা। বাঙালি লোকটির কাছে জানতে পেলাম ওরা তিনজনই সরকারি কর্মকর্তা।দিনে অফিসে রাতে এখানে কাজ করে। ওদের কাছে সব কাজই অনেক সম্মানের। ওরা আখের রস প্রসেস করে দিলো, আমাদের সাথে ছবি তুললো। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা ডিনার করলাম। আমদের কাছ থেকে দেবর বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমরা হোটেলে ফিরে এলাম।
# ১১.০৩.২০২৩
Comments
Post a Comment