২০২৪ এর রণবীর ছাত্র সমাজক

 ★২১.০৭.২০২৪★

আজ তিনদিন হলো ইন্টারনেট কানেকশন নেই। মূলত ১৮ তারিখ (বৃহস্পতিবার)  রাত থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইন নিউজ গুলো পাচ্ছি না।কার্ফিউ জারি করেছে সরকার তাই বাহিরে ও বের হওয়ার কোনো অবস্থা নেই। দেশের অবস্থা ৭১ এর মুক্তি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ ছিল পাকিস্তানের সাথে। এই রণক্ষেত্র নিজ দেশে, সারা দেশের ছাত্র আন্দোলন বনাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্লাস ছাত্রলীগ প্লাস স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি।কোটা সংস্কারের জন্য  ছাত্ররা রাজপথে তাদের মেধার অধিকার চেয়ে আন্দোলন করছে। তারা শাহবাগ এ বেশকিছু দিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছিল। এই আন্দোলনের কারণে রাস্তায় জ্যাম, জনজীবনের জন্য এটা একটা ভালো রকমের যন্ত্রণা। যদিও জ্যাম বাংলাদেশের একটি কমন সমস্যা।  এত রাস্তাঘাটের উন্নয়ণ হলো তবুও নগরবাসী জ্যাম থেকে মুক্তি পেলো না।এর মাঝে শুরু হয়েছে এইচ এসসি পরীক্ষা। কেন্দ্রে যাতায়াতে পরিক্ষার্থীদের ভালোই বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। এই বিষয়ে সতর্ককরে এক আন্দোলনকারী তার ফেসবুকে পোস্ট করেছে এই লিখে, সকালে যারা মিছিল সমাবেশ করবেন প্লিজ, সকাল দশটার আগে কোনো গাড়ি আটকাবেন না। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা আছে, তাদের গলে পৌঁছাতে যেন কোন সমস্যা  না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। ওরা আপনার আমার ভাই বোন।

★১১.০৭.২০২৪★

>ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগানে শাহবাগের প্রকম্পিত সন্ধ্যা ১১ই জুলাই। ০৫ই জুন হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয়। যার সূত্রপাত ঘটে ২০১৮ তে। প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলন যা পরে রুপ নয় নিরাপদ সড়ক আনদোলনে। এক ছাত্র তার ফেসবুক পেইজে বুকভরা কষ্ট নিয়ে লিখে, এদেশের ছাত্ররা অদ্ভূত অদ্ভুত জিনিস  চায়। নিরাপদ সড়ক চায়!জীবনের নিরাপত্তা চায়! যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরী চায়! কিন্তু তারা হয়তো জানে না এগুলো চেয়ে পাওয়া এদেশে সম্ভব নয়! কারণ এগুলো চাওয়ার জিনিস নয়! অথচ এই দাবীগুলোর জন্য সারাদিন সে নিজেই আন্দোলন করছে।

সে বুক ভরা আশা নিয়ে মিনতি করে আরও লিখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকের ছাত্র ছাত্রীরা আগামীর ভবিষ্যৎ। তারাই একসময় এ দেশের হাল ধরবে। এতগুলো শিক্ষার্থীর এই দাবী ভুল দাবী নয়। আমি মুক্তিযুদ্ধার সন্তান হয়েও বলছি, দয়া করে কোটা সংস্কার করেদিন। আমপনি মুক্তিযুদ্ধা এবং তার সন্তানদের জন্য যা করছেন আমি তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধাগণ আজ হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে। তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করে এই সংস্কার করে দিন। পুরো জাতি আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

★১৫.০৭.২০২৪ইং★

#ছাত্ররা সমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। সমাজ পরিবর্তন ও রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সময়ের সাথে ছাত্র আন্দোলনের ধারা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সময়ে তথাকথিত ছাত্র রাজনীতি আর ছাত্র আন্দোলন এক নয়।আর তাই তো আন্দলনরত শিক্ষার্থীদের উপর  ছাত্রলীগ লাঠি পিটা করেছে। ছাত্রলীগের লাঠি পিটায় আন্দলনরত অনেক সাধারণ ছাত্র ছাত্রী আহত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ এর অনেক নেতাই ছাত্রলীগকে  কিছু না বলে,এই ছাত্র আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তুলনা করেছে। ছাত্র লীগের নেতাও এই কর্মকান্ডকে বিভিন্ন ভাবে আখ্যায়িত করে এই ছাত্র আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে সমস্ত ছাত্রলীগকে আহ্বান জানিয়েছে। 

>এর ফলে সারাদিন ঢাবি শিক্ষার্থী আর ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।মেয়েদের উপর নির্মম হামলা করে।(https://www.facebook.com/share/r/UJYZnUj22a8R6Foc/?mibextid=oFDknk)

>তোমরা যত বড় ক্যাডারই হও না কেন হাতে আইন তুলে নিতে পারো না।

তোমরা তোমাদের বোনদেরকে নির্মমভাবে পিটাচ্ছো তোমরা কি মুক্তিযুদ্ধা? এই বোনদের নানী দাদী,মা, খালাদের তোমাদের পূর্বসূরীরা পাক হায়েনাদের হাতে তুলে দিত।তারা কি মুক্তিযুদ্ধা ছিল? বোঝা যায় তাদেরই রক্ত তোমাদের শরীরে! 

>এইদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুহাম্মদ জাফর ইকবাল লিখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমার মনে হয় আর কোনদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইবো না। ছাত্র ছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে এরাই হয়তো সেই রাজাকার! 

আর যে কয়দিন বেঁচে আছি আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাইতো জীবন সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে। লেখাটি লিখে লেখার নিচে নিজের নাম ও তারিখ লিখেছেন। 

>ছাত্র ছাত্রীরা রাজাকার হলে আপনি কি?আজ শিক্ষা ব্যবস্থা পুরো ভঙ্গুর করে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের রাজাকার বলছেন? ছাত্রদের হাতে ডিভাইস তুলে দিয়েছেন। আমারা কি ডিভাইস ছাড়া পড়াশোনা করিনি? আজকের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য আপনারাই দায়ি।বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আপনার? আল্লাহর কাছে প্রার্থণা জানাচ্ছি সত্যি যেন আপনি আপনার এই ইহ জমনে কোনোদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ মাড়াতে না পারেন। আপনি তো মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু কিংবা কিশোর ছিলেন না। তাহলে এত সুযোগ থাকা সত্বেও যুদ্ধ করেননি কেন? শুধু মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? যুদ্ধের সময় আপনি নাকি আপনার মামার বাড়ি গিয়ে গর্তে লুকিয়ে ছিলেন? 

>১৬ ডিসেম্বর, ভোর। ১৯৭১।

আমার বুক ধক ধক করছে। বাজিছে বুকে সুখের মতো ব্যথা। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমরা স্বাধীন। এখন আর মাথা উঁচু করে হাঁটতে সমস্যা নেই।…

‘নিজের দেশের মাটি

দবদবাইয়া হাঁটি।’

আমি দবদবিয়ে হাঁটার জন্যে বের হলাম। প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে আমার ছোট ভাইকে (জাফর ইকবাল)। শুনেছি, সে যাত্রাবাড়ীতে আছে। গর্তে বাস করে। যাত্রাবাড়ীতে আমার দূরসম্পর্কের এক মামা বাড়ির পেছনে গর্ত করেছেন। তিনি তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলে নিয়ে গর্তে বাস করেন। জাফর ইকবাল যুক্ত হয়েছে তাদের সঙ্গে।"

বই: কত না অশ্রুজল।

লেখক: হুমায়ূন আহমেদ।

>একই গোয়ালে যখন পাগলা গরু থাকে তখন গোয়ালা মনে করে,দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। হুমায়ুন আহমেদ আর আপনার মধ্যে পার্থক্যটা এই গোয়ালার ভাবনার মত!

>আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর ভবিষ্যৎ। এরা রাজাকার! এরা মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখেছিল নাকি তখন জন্মে ছিল?আমাদের সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে তাই আপনার এই কথাটি প্রাণ ভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

>এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বল্লেন, মুক্তিযুদ্ধার নাতি/পুতিরাও পাবেনা তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? মুক্তিযুদ্ধার সন্তান, নাতি/পুতিরা কেউ মেধাবী না,যত রাজাকারের বাচ্চারা, নাতি-পুতিরা হলো মেধাবী তাই না?

>এরপর থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেন। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে নানা স্থানে বিক্ষোভ করেন কোটা বিরোধীরা। ঢাবি ছাড়াও বিক্ষোভ হয় জাবি, জবি, রাবি, সাত কলেজ সহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজ।' দৈনিক-দিগন্ত।'        প্রধানমন্ত্রীর এই কথা ও ছাত্রলীগের লাঠি পিটায় আহত হয়ে সারা বাংলাদেশের আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীরা জ্বলে উঠলো।

এবং রাতের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নামতে শুরু করলো।জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করলো। সুফিয়া কামাল হল ঢাবিতেও মশাল নিয়ে স্লোগান ধরলো আমার ভাইয়ের রক্ত,আমার বোনের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না, বৃথা যেতে দেবো না।ঢাবিতে হামলা কেন? জবাব চাই,জবাব চাই। মধ্যরাতে লাঠি হাতে আন্দোলন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এবং স্লোগান তুলে ভুয়া ভুয়া।এমনকি রোকেয়া হলের মেয়েরাও রাস্তায় নেমে পড়লো এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরাও দলে দলে সেই আনদোলনে অংশ গ্রহণ করলো। মধ্যরাতে উত্তাল হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও।

(ভিডিও: রাবিসাস #vairalvideo #Sylhet360tv #Bangladesh) 

রাত ১টা,টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকলে

তারা শ্লোগান তুললো,তুমি কে আমি কে? 

রাজাকার রাজাকার! 

কে বলেছে, কে বলেছে? 

সরকার, সরকার। 

এই স্লোগানের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে।

>এর জবাবে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. . আসিফ নজরুল বলেন,আমি কে, রাজাকার - এই স্লোগান শুনতে বা দিতে কারো ভালো লাগার কথা না। আমি যতটুকু বুঝেছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আত্মপরিচয় দেওয়ার মতো করে এই স্লোগান দেয়নি। তারা এটা বলেছিল গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ ও হতাশ হয়ে। তরপরও তাদের প্রতিক্রিয়া মানানসই কি না সেই প্রশ্ন আসতে পারে। তবে তা আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় নিয়ে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন অভিজ্ঞ মানুষ, বয়েসে আন্দোলনকারীদের নানি-দাদি পর্যায়ের। তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন। ওনার বক্তব্য কী ওনার অবস্থান, বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই ছিল? এই প্রশ্ন তোলার সৎসাহস না থাকলে এবং এরসাথে ছাত্রদের ক্ষোভের কার্যকারণ বিবেচনায় না নিলে, ছাত্রছাত্রীদের একতরফাভাবে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না।

সরকারের মন্ত্রীরা এখন আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করার প্রকাশ্য নির্দেশ দিচ্ছেন। এরপর তাদের ওপর নির্বিচার হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায়। আমার ধারণা এই আক্রমণের প্রেক্ষিত তৈরি করার জন্য আন্দোলনকারীরা নিজেদের রাজাকার বলেছে এমন জঘন্য অপবাদের সৃষ্টি করা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, তাদের ওপর প্রতিটি আক্রমণ ফৌজদারি অপরাধ, এর দায় মোকাবিলার করতে হবে নির্দেশদাতাদেরও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এদেশের সাধারণ মানুষের সন্তান। ১৯৭১ সালে এই মানুষদের ৯৫ শতাংশ মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে অংশ নিয়েছে বা সাহায্য করেছে। সরকারের কাছে আহবান জানাই, ১৯৭১ সালের জনযুদ্ধের এই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ওপর ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীদের আর লেলিয়ে দিবেন না। মানুষের অভিশাপ আর নিবেন না।

লেখক : ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।

★১৬.০৭.২০২৪★

>সাদসাদ্দম বলে,এইদেশে দাঁড়িয়ে ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নিজের রাজাকার , এদের ছাত্র লীগ দমন করবে।ছাত্রলীগের আক্রমণ চরম আকার ধারণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ আনদোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। এর ফলশ্রুতিতে ৬ জন সাধারণ শিক্ষার্থী মৃত্যু বরণ করে। উত্তাল হয় সারা বাংলাদশ।

>এইদিকে ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখে নিজের হাতে আইন তুলে না নিতে ছাত্রলীগের প্রতি অনুরোধ করেন- ব্যারিস্টার সুমন। এবং বলেন প্রয়োজনে কোটা আন্দোলনকারীদের আইনজীবী হবো।

সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সময় টিভি' নিউজ কভার করছিল,সে বলছিল ছাত্রদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে।এক ছাত্র সে সাংবাদিকের পাশে দিয়ে দৌঁড়ে এসে বললো,আমাদের এক ভাইকে মেরেফিলেছে আপনি সে নিউজ দিচ্ছেন না কেন? 

গতকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা আন্দোলন করে কিন্তু ১৬ তারিখ স্কুল, কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরাও প্রতিটি রাস্তায়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে।গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। 

>দেশের উত্তাল অবস্থায় দেশের সব স্কুল, কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য করে।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

অস্র, লাঠি, ইট, চাপাটি দিয়ে প্রতিটি স্থানে আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে। সেই সাথে শুরু হয় পুলিশের গুলি বর্ষণ।

★শ্রীরামপুর,পাটগ্রাম, লালমনিরহাটের ইউনুস আলী নামের একজন পুলিশের হাতে খুন হয় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২২)। বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজন পুলিশ রাইফেল নিয়ে গুলি ছুঁড়ছিল।আবু সাঈদের হাতে ছিল একটি লাঠি।যা দিয়ে সে তার দিকে ছুঁড়ে দেয়া গুলি ঠেকাচ্ছিল।কালো টিশার্ট পড়নে ছিল তার।  পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুকটান করে দুইহাত দু'দিকে ছড়িয়ে দেয় ঐ ছাত্র। আবু সাঈদের বিশ্বাস ছিল পুলিশ হয়তো গুলি করবে না নিজ দেশের সূর্য সন্তানকে কেউ গুলি করতে পারে না কিন্তু আবু সাঈদের বিশ্বাসকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে পুলিশ ঠিকই নির্বিঘ্ননে গুলি ছুঁড়ে দিলো।কিছু বুঝে উঠতে পারে না আবু সাঈদ। আবারও দুহাত মেলে সিনা টান করে দাঁড়ায়। আবাও গুলি ছুঁড়ে ইউনুস। এবার আবু সাঈদের হয়তো বোধদয় হলো।সে ঘুড়ে হাঁটতে গিয়ে টলতে থাকে। কোনরকমে ফুটপাতের উপরে উঠে উপুড় হয়ে পড়ে যায়।গুলি খাওয়ার আগে তার ফেসবুকে শেষ পোস্টে লিখেছিল, যতদিন বেঁচে আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাঁচুন। সেজন্যই হয়তো গুলি খাওয়ার পরও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চাইছিলো।কিন্তু পারছিলো না। 

>আমার নিথর দেহটা রাজপথে ফেলে রেখবেন,ছাত্র সমাজ যখন বিজয় মিছিল নিয়ে রুমে ফিরবে তখন আমাকেও বিজয়ী ঘোষণা করে দাফন করবেন।একজন পরাজিতের লাশ কখনো তার বাবা মা গ্রহণ করবে না।

>সাইফুল আরিফিন এর একটি পোস্ট শেয়ার করে শাহ আলম। তাতে লেখা : একবিংশ শতাব্দীতে আবু সাঈদ সম্ভবত একজনই।হয়তো এমন আবু সাঈদ আর জন্মাবে না।সে এমন এক বীর যার নাম তাবৎ দুনিয়ার মানুষের মনে ও ইতিহাসের পাতায় আসল হিরো হিসেবে স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে। স্যালুট তোমায় হে যুগ শ্রেষ্ঠ বীর আবু সাঈদ। 

আবু সাঈদের মৃত্যুতে উত্তাল হয় সারা বাংলাদশ।সারাদেশ আজ রক্তাক্ত ঢেউয়ের উত্তাল সমুদ্রে উপনীত হয়েছে।সাধারণ ছাত্ররা কোটা সংস্কার এবং মেধার মূল্যায়ন চাইতে গিয়ে তথাকথিত ছাত্রদের হাতে চরম মার খেয়ে আহত নিহত হচ্ছে। 

★ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।  মৃত্যুর ১৬ ঘন্টা পূর্বে তার ফেসবুকে লিখে, 'শহীদ হবো'। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আমার প্রাণের সংগঠন আমি এই পরিচয়ে শহীদ হবো। মঙ্গলবার বার ১৬ই জুলাই ৩টার দিকে চট্টগ্রামে মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হয় ওয়াসিম আকরাম। সূত্র বিডি স্টার টিভিhttps://www.facebook.com/share/v/keJveb8caU7jxcv2/?mibextid=oFDknk

শিক্ষাঙ্গন আজ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাই মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ—এ বিবেচনায় ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নবাব সলিমুল্লাহ এইজন্যই কি এত্তো এতো সম্পত্তি দিয়ে গিয়েছিলেন? 

যাঁর দানকৃত ৬০০ একর জমির উপর আজকের 

>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, 

>ঢাকা মেডিকেল কলেজ, 

>বুয়েট এর মত দেশের নামকরা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে আছে।

@#আজ সেই শিক্ষাঙ্গনে মার খাচ্ছে মেধা। গড়িয়ে যাচ্ছে রক্তাক্ত তরল!

>পুলিশ, মহিলা পুলিশ হল গুলো থেকে মেয়েদের বের হতে দিচ্ছে না যারা বাহির হতে ঢুকতে চাচ্ছে তাদের যেতে দিচ্ছে না। আইডি কার্ড চেক করছে।

@ মুক্তি যুদ্ধাগণ কি তাদের নাতিপুতিদের কোটার জন্য যুদ্ধ করেছিল? 

#যারা ১৯৭১ এ যুদ্ধ করেছিল তারা অধিকাংশ ছিল দিনমজুর,শ্রমিক, কৃষক, চাষি, মাঝি,জেলে, কামার, তাঁতি  তারা মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নেয়নি। যারা সার্টিফিকেট নিয়েছে তারা অধিকাংশই  হলো তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধা। তাদের হয়তো জানাই নেই তারা কি/ কোন অস্র দিয়ে যুদ্ধ করেছিল।কত নাম্বার সেক্টরে করেছিল,কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিল। এইসব মুক্তিযুদ্ধাদের আবার নাতি-নাতনি কোটা কিসের? শুধু প্রতিবন্ধী কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকা উচিৎ নয়।কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে মেধাবীদের  উপেক্ষা করা হচ্ছে। যারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা তাদের লিস্ট করে তাদের বাড়ি, গাড়ি করে দেয়া হোক।তাদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয়া হোক। যারা মহান ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছে সেই মুক্তিযুদ্ধা যারা এখনো অনেক কষ্টে আছে সেইসব পরিবারের লিস্ট করে তাদের জীবন যাপনে পরিবর্তন আনা হোক। যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে তাদের লিস্ট করা হোক।তাদের পরিবারের পাশে থাকা জরুরি।

#১৯৭১ এ দশ বছর বয়সী বাচ্চারাও যুদ্ধ করেছিল, আজ স্বাধীনতার ৫৩তম বছরে যদি তার বয়স হিসাব করি তো এখন তার বয়স ৬৩ বছর।  তিনি হয়তো জীবিতো তার এখন থাকা,খাওয়া,চিকিৎসা অত্যন্ত আবশ্যক। আর যারা বয়োজ্যেষ্ঠ  বা বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধা তারা হয়তো জরাজীর্ণ, শীর্ণকায়,অথবা সজ্জা সায়ী তারা প্রত্যেকে কি মুক্তিযুদ্ধ ভাতা পাচ্ছে?  ১০০% সরকারি তদারকি, চিকিৎসা পাচ্ছে? তারা অনেকে  নিজেরাই এখনো অবহেলিত অথচ নাতিপুতিরা কোটার জন্য সোচ্চার! অনেক মুক্তিযুদ্ধা এখনো কোটা কি তাই জানে না।

ধরুন, আপনি পরীক্ষায় পেলেন ৪০%। আর একজন পেল ৬৫% নাম্বার । আপনি ৪০ % পেয়ে শিক্ষা ক্যাডারে 'কোটায়' চলে এলেন  তো আপনি ছাত্রদের কি শিখাবেন? এটাইতো শিখাবেন কিভাবে ৬৫% প্রাপ্ত মেধাকে কিক্ মাড়তে হয়। ৪৫% পেয়েও সরকারের সব সুবিধা ভোগ করা যায়? কিভাবে দুর্নীতি করে সিংহভাগ অর্জন করা যায়? 

আর একজন ৬৫%পেয়েও সে  মেধার মূল্যায়ন পেলো না??

#বাংলাভিশনের এক সাক্ষাৎকার মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, প্রিলিমিনারিতে পাশ করেছে, লিখিততে পাশ করেছে, ভাইভাতে পাশ করে সে ২.২৭ এ ঢুকেছে। ঢাকা-১৭ আসনের মোহাম্মদ এ আরাফাত এর হিসেব মতেই যদি ধরি, ২.২৭ ও যদি হয় ঠিক এইটুকু ব্যবধানে যদি আপনার সন্তান কোটার কাছে মার খায়? আপনার কেমন লাগবে? আপনার কথা বাদ দিলাম আপনার সন্তানের কেমন অনুভূত হবে?বাবা হিসেবে সেটা বুঝার ক্ষমতা কি আপনার আছে?

@#প্রকৃত #মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য করুন, #নামধারী,

#সার্টিফিকেট ধারী মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য নাকি কান্না ছাড়ুন।@

★টেন মিনিট স্কুলের এর আয়মান সাদিক তার ভেরিফাইড ফেইসবুকে লিখেছেন,'মেধা হোক সবচেয়ে বড় কোটা।' তিনি আরও লিখেছেন, আমার ক্যাম্পাসে রক্ত কেন প্রতিবাদ জানাই।

★সাজিয়া তন্নি নামের একজন তার ফেসবুক ভিডিওতে বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগ দেখে লেকচারার পদে সে এপ্লাই করে। তার রেজাল্ট ভালো ছিল। সে মেধা তালিকায় চান্স পায় এবং ইন্টারভিউ ফেইস করে। কিন্তু তার মেইন ইন্টারভিউর পূর্বে কাগজে কলমে নয় এমন কয়েকটা ইনফরমাল ইন্টারভিউ হয়। একাউন্টস এর একজন বা রেজিস্ট্রার কেউ একজন তাকে ডেকে নিয়ে, তার ব্যাকগ্রাউন্ড, পলিটিকাল পজিশন, কোথায় ভোট দিয়েছে,দাদারা কাকে ভোট দিয়েছে, মামরা কাকে ভোট দিয়েছে।পাবলিক ইউনিভার্সিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্টারনাল পলটিস সাংঘাতিক ভয়ংকর ভূমিকা রাখে। তার উপর যদি কোটা থাকে তাহলে এই মেধাবীরা কোথায় যাবে?উত্তরে সে আবার জানায়,'তারা দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

#সত্যি,,চমৎকার!  আজ আমার দেশের মেধাগুলো বহির্বিশ্বে স্বাক্ষর রেখে চলছে অথচ নিজ দেশে তারা চিরতরে অবমূল্যায়িত হচ্ছে। 

★ঢাকা ট্যকসেস বারে এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক এড. আনোয়ার হোসেন বলেন,

'কি এক আজব দেশ।

চিহ্নিত ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ পায় 

শুদ্ধাচার পুরস্কার!'

>আমার কলিগ প্রিয় বন্ধু স্মৃতি ফোন দিয়েছিল, ধরতে পারিনি।আমি ব্যাক করলাম। দেশের এই পরিস্থিতিতে  সবাই চিন্তিত। সার্বিক বিষয়ে কথা হচ্ছিল এমন সময় ও বললো। তোমাকে পরে ফোন দিচ্ছি। আমাদের এইদিকে গুলাগুলি শুরু হয়েছে বোধহয়।একটু আগেই ও জানালো, ওদের পন্টনের ওখানে পুলিশ বাসায় ঢুকে ঢুকে মোবাইল চেক করছে।ইতোমধ্যে আরও অনেকে জানিয়েছিলো কথাটি।

একদিকে ছাত্র আন্দোলন অন্যদিকে জাফর ইকবাল এর লেখাকে কেন্দ্র করে হচ্ছে তুলকালাম! 

>তার লেখার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ব্যঙ্গ করে সামশা সুলতানা খানম তার ফেসবুকে লিখেন,থ্যাঙ্কিউ পিও অভিভাবক, আপনাকে চেনানোর জন্য।নিজেকে ধিক্কার জানাই, একদা আপনার ফ্যান ছিলাম বলে! নিজেকে ধিক্কার জানাই, একদা শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে আপনাকে এক পলক দেখার জন্য ছুটে গিয়েছিলাম বলে! নিজেকে ধিক্কার জানাই যে কয়বারই আপনার সাথে দেখা হয়েছে, প্রতিবারই নতুন করে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়েছিল বলে! টাইমলাইনে রেখে দিলাম যেন বেঁচে থাকলে দেখতে পাই নিজের এই পিও অভিভাবককে।)

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সা: কে বলতে শুনেছেন- ‘বান্দা যখন ভালো-মন্দ বিচার না করেই কোনো কথা বলে, তখন তার কারণে সে নিজেকে জাহান্নামের এত গভীরে নিয়ে যায় যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের সমান।’ (বুখারি ও মুসলিম থেকে রিয়াদুস সালিহিন : ১৫১৪)।

>খোরখাতা তাদের পেইজে লিখেন, পোস্টটা করতে সম্ভবত বেশ দেরি করে ফেললাম! দুঃখিত একারণে!আমরা আর কখনোই জাফর ইকবালের কোন বই বিক্রি করবোনা। আই রিপিট ; খেরোখাতা আর কখনো জাফর ইকবালের কোন বই বিক্রি করবে না। ইটস লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। 

>IIzan mart তারা লিখেছেন, প্রিয় পাঠক,

অনুগ্রহ করে আর কখনো এই ভদ্রলোকের বই আমাদের কাছে চাইবেন না। ধন্যবাদ

>Bitas Pramanik তার ফেসবুকে লিখেন,অনলাইন বুক শপদের একটি জিনিস দেখে খুব ভালো লাগছে৷ আপনারা যে জাফর ইকবালের বই বিক্রি বন্ধ করেছেন। তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।  Bangla Bazar Books  সহ যারা যারা বন্ধ করেছেন আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

★১৭.০৭.২০২৪★

>The Headlines  তাদের পেইজে পোস্ট করেছে,

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইনভিত্তিক বইয়ের দোকান রকমারি.কম থেকে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তার বই বয়কটের ডাক দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রকমারি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সাইটে জাফর ইকবালের বই এখন আর উপলভ্য নয়। >একইভাবে, প্রগতি বইঘরও তার বই বিক্রি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। 

>এর আগে 'বুকস অব বেঙ্গল' প্ল্যাটফর্মও তার বই বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বুকস অব বেঙ্গল তাদের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছে, তারা জাফর ইকবালের লেখা পড়ে বড় হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। জাফর ইকবালের একটি চিঠির অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কখনো যেতে চান না এবং ছাত্রছাত্রীদের 'রাজাকার' হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের কারণে নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

>BD STAR TV জাফর ইকবাল এর লেখা বই গুলো পোড়ানো ভিডিও পোস্ট দিয়ে সেখানে লিখেন, জাফর ইকবালের বই বয়কট করেছেন শান্তিকামী বাঙালি পাঠকগণ তারই নমুনা হিসেবে তার বই পুড়চ্ছে পাঠক। 

>জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ এবং 

অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের ! বুধবার (১৭জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয় তারা।

>এক পাঠক বলেন, তিনি তো বা*ল পাকনা তাল তিনি এমন কথা লিখেন কি করে? শিক্ষার্থীদের সে রাজাকার বলে! তিনি চুলকে বুঝিয়েছেন।তাছাড়া আমরা জানি এটি চুলের প্রতিশব্দ।অর্থাৎ তার চুল দাঁড়ি সব পেকেছে।আর তাল কথাটি দিয়ে বুঝিয়েছেন বয়সের ভারে পরিপক্ব এমন একজন এমন কথা কিভাবে বলে আজকে এই ছাত্র সমাজকে।

>জনাব জাফর ইকবাল আমিও একজন বই প্রেমি হিসেবে আপনার বইগুলো আমার বুকসলফে স্থান দিয়েছি,আমি হয়ত বইগুলো পুড়াবো না, ছিড়ে ফেলবো না তবে আপনার বোধদয় না হওয়া পর্যন্ত কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত আপনার অন্য আর একটি বইও কিনবো না।

আপনার জানা দরকার একটি কথা মানুষকে যতটা উপরে উঠাতে পারে ঠিক একটি ভুল কথা মানুষকে ততটা নিচে ছুঁড়ে ফেলতে পারে।

#আশুরা অর্থাৎ পবিত্র মুহাররাম হওয়ায় ছাত্র আন্দোলন বন্ধ ছিল।তবে কিছু কিছু স্থানে আন্দোলন চলছিল সেই সাথে ছিল ছাত্রলীগের তান্ডব! ছিল বিএনপি, জামাতের লড়াই সহিংসতা। যাত্রাবাড়ি, শনির আঁখরা সহ ঢাকার আশপাশ গুলোতে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। ছাত্ররা সেদিনও যখম হয়।

বুধবার (১৭ জুলাই) কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নিহত ৬ জনের গায়েবানা জানাজা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। এসময় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শপথ করে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সূত্র  সময় অনলাইন নিউজ। 

ঢাবিতে, হলগুলো আশপাশে, বিজিবি, র ্যাব মোতায়ন করা হয়। বিজিবি ঘেরাও করে বিশ্ববিদ্যালয়।  ছাত্ররা আরও উত্তেজিত হয়ে স্লোগান ধরে :                  সীমান্তে মানুষ মরে,বিজিবি কি করে? এখানে কি করে

প্রায় সব হল থেকেই ছাত্রলীগের নেতা নেত্রীদের বের করে দেয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। ৩৭টি হলই ছাত্রলীগ মুক্ত করা হয়। এবং ছাত্ররা বলে আলহামদুলিল্লাহ আশুরার সেই ঐতিহাসিক দিনে মুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শোনা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হলে ঢুকে ছাত্র ছাত্রীদের উপর নির্যাতন চালায়। অনেক ছাত্র ছাত্রী হলে আটকা পড়ে। আবার যারা বের হয়েছিল তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। পুলিশ বাঁধা দিচ্ছিল। যারা হলে আটকা পড়েছিল তারা খাবার সংকটে ভুগছিল। ছাত্রীদের হলের নির্মম অত্যাচারের ভিডিও রেকর্ড ফেসবুকে আপলোড করা হয় যেখানে তারা চিৎকার করে সাহায্যের আবেদন জানায়।

>একজনের ফেসবুক পোস্টে দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম কালোরাত। ইন্টারনেট বন্ধ, সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ, বিদ্যুৎ বন্ধ।

>আমার পরিচিত আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের একজন তার ফেসবুকে লিখেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কোনো সমস্যা নেই আলহামদুলিল্লাহ। 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে একজন সাংবাদিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞাসা  করলে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় না।এই জাহাঙ্গীর নগর আমাদের জাহাঙ্গীর নগর না। আমাদের হাজার হাজার ছেলেমেয়র উপর হামলা হচ্ছে। ক্যাম্পাস রক্তাক্ত হচ্ছে। ভিসির সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। হল প্রোভোষ্ট কোথাও নেই। পলিশরা ছাত্র ছাত্রীর সাথে যে ব্যবহার করছে তা মানুষের পর্যায় পড়ে না। ৭১ এই ব্যবহার হয়েছে কিনা জানি না। আমরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের রেসকিউ করতে এম্বুলেন্স পাচ্ছি না। পেলেও পুলিশ এম্বুলেন্সে হামলা করছে।

>জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেন

তিনি বলেন, আদালতে তারা ন্যায় বিচার পাবে। তিনি বলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট যখন কোটা বিরোধী  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাদের সুযোগ করে দেয়া হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে 

কিছু মহল তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চাবিলাশ চরিতার্থ করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়।এর ফলে াঅহেতুক কতগুলো মূলবান জীবন ঝড়ে গেলো।যেসকল ঘটনাগুলো ঘঠেছে তা কখনো কাম্য ছিলনা। চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে ফেলেছে। তাদের লাঠিপেটা করেছে।ধারালো অস্র দিয়ে আঘাত করেছে। একজন মৃত্যু বরণ করেছে। অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

ঢাকা,রংপুর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ও ছাত্র ছাত্রীদের আবাসিক হলে অগ্নি সংযোগ ও ভাংচুর করা হয়।সাধারণ ন মানুষ, দোকান পাট এমনকি এম্বুলেন্স চলাচলে বাঁধা প্রদান করে।মেয়েদের হলের ছাত্রীদের উপর আক্রমন করা হচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আবাসিক হলের প্রোভোস্টদের হুমকি দেয়া ও আক্রমণ কর হয়েছে। শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে তাদের উপর হাত তোলা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে এই সন্ত্রাসীের কোনো সম্পর্ক নেই।সন্ত্রাসী এই আন্দোলনকরীদের মধ্যে ঢুকে এই নৈরাজ্য তৈরী করছে।

তিনি আরও বলেন,যারা হত্যা হয়েছে তাদের জীবন-জীবিকার জন্য যে সহযোগিতা দরকার তা আমি করবো। তিনি বলেন আমি দ্ব্যার্থহীনভাবে জানাচ্ছি যারা এই হত্যাকান্ড,লুটপাট ও সন্ত্রাসীর সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮ তারিখ 
সকাল ১১টার মধ্যে স্কুল, কলেজ,সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনের উত্তাল সাগরে উপনিত হয়। প্রতিটি স্থান রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। একদিকে পুলিশের হামলা, তো আরেকদিকে ছাত্রলীগের। আবার উভয় দিক দিয়ে ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলা। 
আমাকে আমার সন্তানের এক বন্ধবীর মা ফোন দিয়ে জানতে চাইলো, ভাবী আমার মেয়ে কি আপনার বাসায় গেছে? আমি জানালাম না। বেচারি তো হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করলো। আমি তাকে শান্তনা দিয়ে বল্লাম,'আপনি টেনশন করেন না আমি আমার মেয়েকে ফোন দিয়ে ওর খোঁজ নিতে বলি। 
বাসার যাবতীয় কাজ শেষ করে,আমি রুমের ভিতরে তালা দিয়ে একটু রেষ্ট নিচ্ছিলাম। দেশের এই পরিস্থিতিতে রাতে ঘুমাতে পারছিলাম না। তাই একটু চোখ মুদে এসেছিল। এমন সময় এই ভাবীর ফোন। 
হায় বিধিবাম! আমি কাকে ফোন দিবো আমার সন্তানেররাই তো বাসায় নেই। তখন দুপুর ১২.৩০মি. 
গেইট খুলতে গিয়ে দেখি নিজেই তালা বন্ধ। আমার বাসার দুই দরজা দিয়ে বের হওয়া গেলেও একটি দরজার সাথে ফার্নিচার দিয়ে ব্লক করা ছিল ওরা ফার্নিচার সরিয়ে বেরিয়ে গেছে,আর আমাকেই আটকে গেছে। আশুরার আগের দিন কোচিং থেকে বের হওয়ার পর ওদের স্কুলের সবাইকে আন্দোলন করতে দেখে দু'বোন সেখানে যোগ দিয়েছিল। স্কুল থেকে স্যার ওর বাবাকে ফোন দিয়ে জানালে, আমার হাসবেন্ড দুই মেয়েকে আন্দোলন থেকে তুলে এনে বাসায় রেখে বাইরে তালা দিয়ে গিয়েছিল কারণ আমি বাসায় ছিলাম না। আমি কেরানীগঞ্জ এসিল্যান্ড অফিসে ছিলাম, মামলা শুনানি ছিল। আজ আবার যেতে পারে ভেবে আমিও বাসা থেকে বের হইনি ভেতরে তালা লাগিয়ে রেখে ছিলাম। আন্দোলন থেকে নিয়ে আসার সময় গতকাল সহপাঠীরা বলেদিয়ছিল আজ এগারোটার মধ্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে।তাই সব উপেক্ষা করে বের হয়ে গছে। এমন সময় ওদের বাবা ফোন দিলে আমার অবস্থার কথা জানালাম। ও দ্রুত এসে আমাকে মুক্ত করে মেয়েদের শান্তি নগর মোড়ে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে থেকে নিয়ে এলো, আমাকে ফোন দিয়ে নিচে নামতে বলে ও চলে গেলো।আমি বাসার নিচে নেমেছি বটেই ওদের আর বাসায় উঠাতে পারি না। ছোট মেয়ে কান্না শুরু করে দিলো। তোমরা পাষাণ এত গুলো স্টুডেন্ট মারা গেলো তোমরা অভিভাবকরা চুপ করে আছ, তোমাদের ও আন্দোলনে যাওয়া উচিৎ। তোমরা মানুষ? খাগড়াবাড়ি পার্বত্য উপজাতিরাও কোটা সংস্কার চায়। তারাও আন্দোলনে নেমেছে। 
আজকে আমরা মরে গেলে কি তোমরা ঘরে বসে থাকতে পারতে? তখন তো ঠিকই সবার আগে আন্দোলনে যোগ দিতে। যেন বেঁচে থাকো সে জন্যই তো এত সতর্কতা অবলম্বন করছি। আন্দোলনে যেতে দিচ্ছি না। বাসায় চলো। মেয়েদের উত্তর না যাবো না। 
আমি বল্লাম, আন্দোলনে গেলে যদি মরে যাও। তাহলে শহীদ হবো;এই বলে, দু'জন উল্টো হয়ে হাটা শুরু করলো। ওদের ধরতে আমিও ওদের পিছু নিলাম। কর্ণফুলি মার্কেট থেকে সামনে এগুতেই দেখলাম, অনেক গুলো লোক জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে, সাংবাদিক ও আছে, সে কিছু একটা প্রশ্ন করতেই একজন চিৎকার করে বলে উঠলো, সরকার ছাত্রদের বলৎকার করে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিক জিজ্ঞসা করলো, বলৎকার মানে বুঝলাম না।
বুঝলেন না? চিৎকার দিয়ে ভদ্রলোক সাংবাদিককে প্রশ্ন করলো। 
কি হয়েছে বুঝার জন্য আমি একটু দাঁড়ালাম। আমি বুঝলাম, বেচারি আমার মত একই কেসে ফেঁসে গেছে না পারছে সন্তানকে বাসায় ফিরিয়ে নিতে না পারছে একা ফিরে যেতে। সে আবার চিৎকার করে বলছে আপনারা তো হলুদ সাংবাদিক, আপনাদের কাজ হলো তিলকে তাল করা, কালোকে সাদা বনিয়ে সংবাদ প্ররচার করা? আমি সাংবাদিকের দিকে তাকালাম, সে কোন চ্যানেল থেকে এসেছে বুঝার চেষ্টা করলাম কিন্তু বুঝতে পারলাম  না; সে কোনো চ্যানেল নাকি অনলাইন সাংবাদিক।কারণ এক সাংবাদিক দাঁড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ তাদের চ্যানেলের উদ্দেশ্যে বলছিল বলে ছাত্ররা নাকি তার ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিল। তাই ওখানে যারা ছিল তারা সবাই মোবাইলে ভিডিও করছিল। সাংবাদিক ও নাছোড়বান্দা আবারও একই প্রশ্ন করে বসলো। এবার লোকটি বললো, বলৎকার বোঝেন না পু'কি মারা বোঝেন? আমি আর দাঁড়ানোর হিম্মত দেখাতে পারলাম না।দ্রুত ওখান থেকে সরে সামনে এগুলাম। এত ছাত্র ছাত্রী!  আমি কোথায় খুঁজবো দুই মেয়েকে। ফোন দিলাম কিন্তু রিসিভ করলো না। এত শব্দ ফোনের সাউন্ড ওদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবেও না। এই ভেবে আর একটু সামনে এগুতেই আরও অনেক অভিভাবকদের দেখতে পেলাম। শংকিত,চিন্তিত, লেশহীন নেত্রে আন্দোলন রত শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে।  হয়তো দু-চোখ খুঁজছে তার কলিজার টুকরা;ভীরের ভিতর কথায় আছে? ভাবছি ভীরের ভিতরে ঢুকেই মেয়েদের খুঁজে নিয়ে আসবো। এমন সময় বিকট শব্দ।  ছেলেমেয়েরা এলোপাথাড়ি দৌঁড় শুরু করলো। অভিভাবকরা ও দৌঁড়াতে গিয়ে কয়েকজন পড়ে গেলো। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম, কারণ দৌঁড় দেয়ার মত কোনো শক্তি আমার ছিল না। আমার আত্মা শুকিয়ে গেছে। কয়েক মিনিটের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলাম কি হলো? একজন ছেলের উরুর মাংস খসে গেছে। কয়েকজন ছেলেটিকে ধরাধরি করে একটি সাইডে নিয়ে গেলো।কিছু ছেলে মেয়েদেরকে কেএফসির গেইট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। একজন পথচারী কয়েকটি ছেলেকে বললো, তোমরা এলোমেলো ছুটাছোটি করো না,দেখো; ফ্লাইওভার এর উপর থেকে এটা ফেলেছে। এটা কি ফেলেছে তাও বুঝতে পারছি না। ওরা যখন উপরে তাকালো, সাথে আমিও তাকালাম।ছাত্ররা চিৎকার করে উঠলো, তখন ওরা ইট ফেলতে শুরু করলো উপর থেকে ওরাও নিচ থেকে সমান তালে ইট ছুঁড়ে মারলো। ঐ ছাত্রলীগের মায়রেবাপ নিচে আয়। আর এক গ্রুপ ততক্ষণে ফ্লাইওবারে উঠে গেলো যারা বাইকে ছিলো তাদের ধরতে পারেনি। যারা দাঁড়িয়ে ছিলো তাদের প্রত্যকের  হাতে ছিল মোটা লাঠি। ছাত্ররা অনেকেই লাঠির আাঘাতে আহত হলো। একজনের কানের কাছে চোখের কোন ঘেঁষে বাড়ি লেগে চামড়া সরে গেছে। ছাত্ররা দুইজনকে চ্যাংদোলা করে নিচে নামিয়ে আনলো। একজন বললো, ও ভাইরে আমারে মাফ কইরা দে মামা। কাউয়া কাদেরের নির্দেশে আমরা এগুলা করছি। ভয়ে ছেলেটি ভাই মামা একসাথে ডাকা শুরু করলো। মাফ চেয়ে ছেলেরা পাড়পেলো।আমি ততক্ষনে মেয়েদের খুঁজতে কেএফসিতে ঢুকলাম।আন্দোলনে মেয়েরাও তো কম আসেনি। ভিকারুননিসা, সিদ্ধেশ্বরী, উইলস। তবে ভিকারুননিসার মেয়েরা কম।ওরা ওদের কলেজের সামনেই প্রোটেস্ট করছে। মেয়েদের খুঁজে পেলাম। আমাকে দেখে ওরা বললো, আম্মু তুমি বাসায় ফিরে যাও অভিভাবকদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। একটু আগে পুলিশ এসে আমাদের এক ফ্রেন্ড এর বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। অন্যান্য সহপাঠীরাও একযোগে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে লাগলো হ্যাঁ আন্টি হ্যাঁ আন্টি আপনি চলে যান। 
তোমাদের রেখে আমি চলে যাবো? তোমরা মরতে এসেছ, আমিও মরবো সমস্যা কোথায়?
আম্মু তুমি বুঝতে পারছো না,, তুমি বাচ্চাদের মত কথা বলছো, আম্মু তুমি বাসায় যাও প্লিজ বলে, আবার ভিরের মধ্যে দৌঁড় দিলো মেয়েরা। 
সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান অথচ শিক্ষার্থীদের সেই খেয়াল নেই। দলবেঁধে সব চলে এসেছে ছাত্র আন্দোলনে। সব কলেজ থেকে ওদের 'অধ্যক্ষ' শিক্ষার্থীদের ফোন দিয়ে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছে কিন্তু তারা কানে তোলনি। কলেজ থেকে আরও জানানো হয়েছে তোমারা আন্দোলনে গেলে তোমাদের এডমিট কার্ড কলেজে জমা দিয়ে যাও।শিক্ষার্থীরা তাতেও রাজি। প্রয়োজনে পরীক্ষা দেবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল কাতেই হবে। তাদের সহপাঠীদের আত্ম ত্যাগের বিনিময় /জীবনের মূল্য আদায় করতেই হবে। সরকারকে মানতেই হবে তাদের দাবী।
যুগে যুগে যত ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল কেউ কি তা ঠেকাতে পেরেছিল? ছাত্রদের জীবনের বিনিময়ে সেই আন্দোলনই সফল হয়েছিল। ইতিহাস এটাই বলে।কোনো ছাত্র আন্দোলন কি অযৌক্তিক ছিল?মেধার মূল্যায়ন চাওয়া কি অযৌক্তিক?#ছাত্ররা তো ভাত কাপড় চায়নি চেয়েছে অধিকার, মেধার মূল্যায়ন!
এদেশের জন্মলগ্ন থেকে এই ভূখণ্ডের সাথে মিশে আছে ছাত্র আন্দোলন।  ১৯৫২ সালের ভাষা আনদোলন, ৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬২-৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা আনদোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ততকালীন ছাত্রদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের ভূমিকা। প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরীতে ছাত্র আন্দোলন ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। 
কাকরাইল থেকে একদল ছাত্রলীগ আরেকদল এলো মালিবাগকের দিক থেকে।ছাত্ররা ওদের লাঠি আর ইটের ঢিল খেয়ে বেইলি রোডের রাস্তায় ঢুকে গেলো, একজন চিৎকার করে বললো, আরে আমরা তো সংখ্যায় বেশি আমরা পালাচ্ছি কেন? তখন সবাই আবার উল্টো ঘুরে ওদের পাল্টা ধাওয়া করলো। ওরা আবার একসাথে জড়ো হয়ে স্লোগান ধরলো। 
কোটা না মেধা? মেধা মেধা।  
চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার।
এরিমধ্যে পুলিশ এসে কয়েকবার ছত্র ভঙ্গ করার চেষ্টা করলো।ছাত্রদের ইউনিটি ভাঙতে না পেরে ফিরে গেলো। তো অন্য অভিভাবকদের নিকট শুনলাম, ১২টা দিকে পুলিশ একবার এসে ছাত্রীদের বল্লো মা তোমরা চলে যাও। এখানে একটুপর গন্ডগোল হবে। কিন্তু ছাত্রীরা পুলিশদের ঘিরে দাঁড়ালে ওরা কথা না বাড়িয়ে ফিরে গিয়ে টিয়ারগ্যাস মেরেছিল ছাত্ররা ঐ পুলিশের গাড়ি নাকি ভেঙে ফেলছিল। ঠিক চারটার দিকে 
সিদ্ধেশরীর ঐ পাশটা দিয়ে পুলিশের গাড়ি ঢুকার জন্য চেষ্টা করলো। ছাত্ররা দৌঁড়ে যেতেই গাড়ি ভাঙার ভয়ে ইউটার্ণ করে ফিরে গেলো। একটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত আমি ছিলাম, আমার মত আরও অসহায় অভিভাবকগণ ছিলো। ভাগ্যকে নির্মম পরিস্থিতির উপর ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম,বাচ্চাদের জীবন নিয়ে বাসায় ফিরে যেতে পারবে তো!  
সারাক্ষণ মনে মনে যত দোয়া দরুদ জানি সবই পড়েছিলাম। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম,যেন আর একটি সন্তানেরও মায়ের বুক খালি না হয়। 
পাঁচটা বেজে তখন পনেরো মিনিট মেয়েদের সবাইকে যার যার বাসায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে আমার দুই মেয়ে সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আমার বাসায় এলাম আর বল্লাম, তোমরা বাসায় ফিরে যাওয়ার পূর্বে স্কুল ড্রেস চেঞ্জ করে নাও। ওদের আম কেটে দিয়ে, ওয়াশ রুমে ঢুকলাম। বেরিয়ে ঐ ভাবিকে ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করলাম তার মেয়েকে আমি আমার বাসায় নিয়ে এসেছি।
আমার হাসবেন্ড দুবাই যাবে অনেক আগেই টিকিট করা ছিল। বাসায় এসে মেয়েরা যেন আর একদিন ও না বেরোয় বুঝিয়ে শুনিয়ে ও নিজে গোছগাছ করে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, তখন ছোট মেয়ে হঠাৎ করে বলে উঠলো,  যাও যাও দুবাই যাও। তুমি তো আওয়ামীলীগ! দেশের এই অবস্থায় আন্দোলনে না গিয়ে দুবাই যাচ্ছো। ৭১ এর রাজাকারদের দেখলে সারাদেশের মানুষ যেমন ধিক্কার দেয়।
আওয়ামীলীগদের দেখলে সারাদেশের ছাত্র সমাজ এখন থেকে ধিক্কার দিবে! তোমরা তো রাজাকার থেকেও খারাপ!  আমি মেয়ের মুখ চেপে ধরে ওর বাবকে বিদায় জানিয়ে গেইট বন্ধ করলাম।
মেয়ের পাশে বসে বল্লাম, এসব কি বলছো! মেয়ে বললো,তুমি জানো না আমাদের কতগুলো ফেন্ড আহত হয়ছে, কতগুলো ফেন্ড এখন হসপিটালাইজড। পুলিশ শুধু টিয়ারগ্যাস মারেনি, রাবার বুলেটও মেরেছে। তখন তোমাকে বলিনি তুমি আমাদের জোর করে আবার ধরে নিয়ে আসবা। 
এই তল্লাটপ কেউ নিহত হয়নি বটে তবে বাসায় ফিরার পর, অনলাইন নিউজ এ দেখলাম ৫৬ জনছাত্র শহীদ হয়েছে।  মামুন মৃধা নামের একজনের একটি ভিডিও পোস্টে দেখলাম, একজন পুলিশ তার পোশাকের উপর পাফার জেকেট পরা তাই তার নেইম-প্লেট দেখা যাচ্ছে  না, হাতে ওয়াকিটকি। কানের দুপাশে চুল চাঁছা,মাথার তালুর চুল খুব ছোট করে কাটা। গায়ের রং হয়তো ফর্সাই ছিল এখন দেখতে শ্যামবর্ণ। রাস্তায় ডিউটি দিতে দিতে এই বর্ণ ধারণ করেছ। সে বলছে,আমাদের উপর নির্দেশনা আছে আজ যদি আপনারা বের হন আমরা কিন্তু ডাইরেক্ট গুলি করে দিবো।আমাদের ব্যবস্থা আমরা নিবো। এজন্যই কি আজ আপনারা এই নৃশংস হত্যাকান্ডগুলো ঘটিয়েছেন? কার নির্দেশ আছে আপনাদের উপর? 
★এরিমধ্য রেসিডিয়ানশিয়াল কলেজের একজন ছাত্রের নিষ্পাপ চেহারাটা দেখতে দেখতে আর অন্য কোনো নিউজ পাওয়া আগেই পুরো ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ হয়ে গেল।  
২০১৮ যখন একই বিষয়ে ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছিল তখন কিন্তু এই শঙ্কা ছিল না।কারণ বাচ্চারা তখন অনেক ছোট ছিল। ছাত্র আন্দোলন কি তখন ওরা বুঝতো না। কোটা কি?  কোটা সংস্কার কি এসব কিছুই বুঝতো না, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আকাশ পাতাল ব্যবধানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলাম সারাদিন। 
তাছাড়া তখন এত বিরাট ভয়ংকর রুপ নেয়নি। অথবা এত ফেসবুক ব্যবহারকারি ছিল না। তাই সব ঘটনা হয়তো কভার করা সম্ভব হয়নি। এখন তো সবার হাতে হাতে মোবাইল, যে কেউ যখন তখন ভিডিও ক্যাপচার করে ফেলে।তাই প্রকাশ ব্যাপ্তিও অনেক বেশি। তখনও ছাত্রলীগ এমন তান্ডব চালিয়েছিল। 
কোটা সংস্কার আন্দোলনটা শুরু ছিল ২০১৮. বাংলাদেশে সব ধরনের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি ছিল এটা।১৯৭২ সাল থেকে চালু হওয়া কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের' নেতৃত্বে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৪৬ বছর ধরে চলা কোটাব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে সরকার। 
এই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করে মুক্তিযুদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলর সভাপতি অহিদুল ইসলাম সহ আরও সাতজন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটিকে ৫ জুন ২০২৪ইং সালে বাংলাদেশ হাইকোর্ট অবৈধ বলে ঘোষণা করেন এবং
বাতিলকৃত কোটা পুনরায় বহাল করেন। যার ফলে পুনরায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদশে। 
আমার হাসবেন্ড বাসা থেকে বের হওয়ার কিছু ক্ষণ পরই বিকট গুলাগুলির শব্দ শুতে পেলাম। আমি ভয় পেলাম আমার হাসবেন্ডকে ফোন দিলাম।ওর ফোন বন্ধ। কি করবো বুঝে উঠতে পারলাম না। মেয়েদের বল্লাম, তোমরা থাকো,বের হইও না, আমি নিচে গিয়ে দেখে আসি কি হলো? আমি গলির মুখে যেতেই দেখি এক লোক কাকরাইল মোড় থেকে দৌঁড়ে এসে চার্চের দিকে যাচ্ছে।  কি হয়েছে  জিগ্যেস করলাম কিন্তু কে শোনে কার কথা? আরেকটু সামনে এগুতেই আরেকজনকে দেখতে পেলাম, কাকরাইল মোড় থেকে এই দিকে আসছে। আমি কিছু জানতে চাওয়ার আগেই লোকটি আমাকে বললো আপা, ঐ দিকে এখন যাবেন না। ছাত্রদের সাথে গোলাগুলি হচ্ছে। 
কে করছে? আমি জানতে চাইলাম। 
ছাত্রলীগ, পুলিশ সবাই আছে। কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে, একজন মারা গেছে হয়তো। একজন পুলিশ মারা গেছে আর একজনের হাত কেটে গেছে। এই বলে সেও বামের গলি দিয়ে শিল্পকলার দিকে দৌড় শুরু করলো।
আল্লাহ হেফাজত করো।সত্যি মিথ্যা জানিনা। আমিও দৌঁড়ে বাড়ির গলিতে এসে দাঁড়ালাম। আমি ফোনে আবার ট্রাই করলাম।তখনো ফোন বন্ধ। এবার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। মেয়েরা বাসা থেকে ফোন দিলো।আম্মু এত শব্দ কিসের? তুমি কোথায়? বাবা কি এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেছে?
আমি নিজের মনকে শান্ত করলাম, মেয়েদের বল্লাম, টেনশন করো না আমি নিচে আছি। চিন্তা করে দেখলাম ও তো এয়ারপোর্ট শান্তি নগর দিয়ে যাবে না যাবে মৎস্য ভবন দিয়ে। ঐদিকে কোনো গোলাগুলি হয়নি সারাদিন, এখনো নেই। তাহলে সব নিশ্চয়ই ঠিক আছে। এমন সময় ফোন এলো, আকাশ জানালো,আমি এয়ারপোর্ট পৌঁছেছি। অনেক কষ্ট হয়েছে গাড়ি পেতে।কিছু না পেয়ে পাঠাও একটা পেয়েছি। যাইহোক তোমরা প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হইও না।মেয়েদেরকে চোখে চোখে ও দেখে শুনে রেখো। আমি জিগ্যেস করলাম তোমার ফ্লাইট কখন? জানিনা ফ্লাইট ডিলে হবে। ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ তাই বডিং হচ্ছে না। বিদায় নিয়ে ফোন রাখতেই দেখি কয়েকজন এই গলির মুখেই দাঁড়ালো।  ওরা বলা বলি করছে দেশের এই অবস্থায় আইন মন্ত্রী আর শিক্ষা মন্ত্রীকে সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে উনি এখন ভাগছেন, স্পেন যাচ্ছেন, ব্রাজিল যাচ্ছেন। 
কাদের সাহেবকে নাকি বলে গেছেন, জরুরী অবস্থা জারি করতে, পুলিশকে নাকি সব কিছু করার পারমিশন দিয়ে গেছে। আমি আর কালবিলম্ব না করে দ্রুত বাসায় ফিরে এলাম।
★১৯.০৭.২০২৪
আজ শুক্রবার। জুম্মার দিন, এই পবিত্র দিনের উছিলায় হয়তো সব থেমে যাবে।কিন্তু  তা কি আর হয়?
সেনা বাহিনী নামানো হলো। শঙ্কা ভয়ানক হলো! কি হবে এই ভেবে। আমার বাসা থেকে সারাদিন গুলাগুলির শব্দ পেলাম। বিজয় নগর, পল্টন, বাইতুল মোকাররাম, বিনএনপি অফিস, জাতীয়পার্টি অফিস, ফকিরাপুল তুমুল গন্ডগোল হলো। রাতেও থামার লক্ষ্মণ নেই। সারাদেশেই বিএনপি, জামাতের লড়াই চললো। রাপুরা, মেরাদিয়া থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হলো।বিটিভিতেও অগ্নিসংযোগ করা হলো। নরসিংদী জেলখানা ভেঙে ফেলায় কয়েকশত কয়েদি পালিয়ে গেল।
আইনমন্ত্রী বলেন শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবের পরিপ্রক্ষিতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাকে এবং শিক্ষা মন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাদের সাথে আলোচনায় বসার জন্য, আমরা বসবো এবং এটাও বলতে চাই, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, যদি আজকে হয় তবে আজই বসতে রাজি আছি।
এবং আমাকে ঘোষণা দিতে বলেছেন,আগামী ৭ই অগাস্ট এই মামলা শুনানির যে কথা ছিল তা এগিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে। আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের এটর্ণী জেনারেল কে নির্দেশ দিয়েছি আগামী রবিবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপীল বিভাগে আবেদন করবেন যেন মামলার শুনানির তারিখ এগিয়ে আনেন। এক সাংবাদিক মাননীয় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, আমরা জানি, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাখে নির্বাহী বিভাগ এত বাজে সিচুয়েশনের আগে নির্বাহী বিভাগ কেন কোন ব্যবস্থা নিলো না? 
>মাননীয় মন্ত্রী আপনারা আজই ছাত্রেদের সাথে বসতে রাজি অথচ এই বিষয়টি যদি ১৫.০৭.২৪ ইং তারিখে আমলে নিতেন তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১৭.০৭.২৪ ইং তারিখে এত ক্ষয়ক্ষতির ফিরিস্তি দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে হত না। এত বিধ্বংসী অবস্থা হতো না।
>ZR Rupa তার ফেসবুক পেইজে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ এক ভাইয়ের বোনের লেখা পোস্ট করেছেন। লেখাটি হুবহু তুলে দেয়া হলো : ছবির ছেলেটা আমার ভাই,আমাদের দুই বোনের একমাত্র আদরের ভাই।আমরা ওকে কি পরিমাণ ভালোবাসি এটা হয়তো কখনো আর তাকে বলা-ই হবেনা,সুযোগ কই?
যেদিন প্রথম আম্মু তাকে আনে বাসায়,এসেই সে আমাদের দুই বোনের গায়ে স্ব-সম্মানে হিসু করে ভালোবাসার জানান দেয়।আমাদের ছোট্ট বাবুটাকে আমরা টুনা ডাকতাম,ভালোবাসার ডাক আরকি।ছোট্ট টুনা বড় হয়ে বড় টুনা হইলো,কিন্তু টুনা ই রয়ে গেলো আমাদের কাছে,সৈকত হইতে পারলোনা।কি রাগ তার!!! "আমাকে বন্ধুদের সামনে টুনা ডাকবানা তো সেবন্তি আপু"।
১১ই সেপ্টেম্বর এ তার ২০ বছর হওয়ার কথা ছিলো।জন্মদিনের কয়েকদিন আগে থেকেই গান গাওয়া শুরু করতো ,"সেবন্তি আপু,কি কেক বানাবা তুমি?"
কত হাসিখুশি ছিলাম আমরা।এখন বুকে খালি হাহাকার,কি যেন নাই,নাই তো নাইইইইইইইই!!!!!!!!!!
আমাদের কলিজাকে গুলি করে মারা হয়েছে।আমার ফুলের মত ভাইটাকে ঠান্ডা মাথায় টার্গেট করে মাথায় গুলি করা হয়েছে।বাবার কাধে ছেলের লাশের চেয়ে ভারী এই পৃথিবীতে কিছু আছে?
বিচার কাকে দিবো?
আমি জানিনা আমরা আর কক্ষনো মন খুলে হাসতে পারবো কিনা,ওর পছন্দের কিছু খাইতে পারবো কিনা,কক্ষনো সত্যিকারের ভালো থাকবো কিনা।কিচ্ছু জানিনা।শুধু জানি আমার ছোট্ট ভাইটা নির্দোষ,সে ছোট্ট একটা বাচ্চা ছেলে যে বীরের মত বন্ধুকে বাচাতে গিয়েছিলো,কারণ এটাই তার পারিবারিক শিক্ষা যে কাওকে বিপদে দেখে সাহায্য করতে হয়।
কক্ষনো আর ভাইকে দেখতে পাবোনা,জড়িয়ে ধরতে পারবোনা,গালে-কপালে জোড় করে চুমু দিতে পারবোনা,আর কক্ষনো বলতে পারবোনা,"টুনা কয়েল ধরায়ে দে","টুনা পানি দে"।
আমার ভাই শহিদ,শুক্রবার দিন,দুপুর ৩:৩৭ এ আমার ভাইয়ের মাথায় গুলি করা হয়েছে।
বিদ্র-সবাইকে জানাতে চাই আমার ভাই শহিদ,ও নিষ্পাপ।সবাইকে জানাতে চাই সে কক্ষনো কারোর ক্ষতি করেনি। 
Sabrina Shabonti  (নিহতের বোন)
>বাংলাদেশের ছাত্রদের সাহসিকতা দেখে মুগ্ধ, দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালান ডোনাল্ড, ছাত্রদের উপাধি দিলেন সুপারম্যান।
★২০.০৭.২০২৪ 
সত্যি সত্যি সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারির কবলে পড়লাম। যদিও গতরাত ১টা থেকে কার্ফিও জারি হয়েছে।
একদিকে ইন্টারনেট নেই, অন্যদিকে ঘরে বাজার শেষ আর বাইরে বের হওয়াও বন্ধ। মনে হচ্ছে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য কোনো গ্রহে চলে এসেছি। কেউ ডিশে কোনো চ্যানেল দেখে না তাই দুই মাস আগে ডিশ লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলাম।
ফোন করবো মোবাইল রিচার্জও শেষ। বিকাশ করবো সেখানেও গলদ। রিচার্জ হচ্ছে না। বিকাশ আমাকে দয়াকরে  ৩২ টাকা লোন দিয়েছে। ৩২ টাকা শেষ হতে পনেরো মিনিটও সময় নিলো না।কাউকে মিসকলড দেয়ার অভ্যেস নেই। কিন্তু ১টাকা ৩২ পয়শা অবশিষ্ট আছে। বাধ্য হয়ে মিসকলড শুরু করলাম। দেশের কোনো নিউজ পাচ্ছিলাম না। আমার এই দৈন্যদশা দেখে শুভাকাঙ্খীগণ চেষ্টা করলো নগদ, বিকাশ করতে।
বিকাশ ফেইল হতেই নগদ থেকে ৫০ টাকা উপহার এলো। যাইহোক এরপর ভাগিনাকে ফোন করে বিকাশের দোকানে পাঠিয়ে মোবাইলে লোড নিলাম। রিচার্জ করতেই ৩২টাকার লোনটা টুপ করে কেটে নিলো।বান্ধবী, মা,বোন, আত্মীয় সবাইকে ফোন করে করে দেশের সার্বিক অবস্থা জানতে শুরু করলাম।
২ ঘন্টার কার্ফিউ বিরতি পেয়ে বাজার করে আনলাম।
বাজারে গিয়ে দেখি তুল কালাম কান্ড। বাজারের সদাই-পাতি তো নিবেই এমন অবস্থা কার মাথা কে নিবে। তিল ধারণের জায়গা নেই।আর তো দাঁড়াবার জায়গা! ভিড় কমে যাওয়ার পর ভেতরে ঢুকে দেখি তৃতীয় সারির সব পণ্যশশ্য কিছুটা নষ্ট, পঁচা, কিন্তু আগুন মূল্যেই কিনে আনতে হলো। বাজার করে রিকশা চড়ে  কেবল একবাঁক ঘুরেছি ওমনি আর্মি রিকশা আটকে দিয়েছে। কোথায় যাবো, কোথা থেকে এসেছি? বাজারের ব্যাগ দেখার পরও প্রশ্ন আমি কেন? আমি বললাম,  আমার বাসায় আমি আর বাচ্চারা ছাড়া আপাতত আর কেউ নেই প্লিজ আমার ব্যাগটা আপনি নিজ দায়িত্বে আমার বাসায় পৌঁছে দিলে আমি উপকৃত হবো। আপনার আর কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না। তখন আমার রিকশা ছেড়ে দেয়া হলো।
★২১.০৭.২০২৪
একজনকে ফোন দিয়ে দেশের খবর জিজ্ঞেস করতে সে হাসতে হাসতে বললো, তোমার নেত্রীকে তো স্পেন একসেস দেয়নি হিহিহি। ব্রাজিল ও এন্ট্রি পারমিট করেনি। আবারও হিহিহি। আমি ঠিক হাসবো না কাঁদবো ঠিক কিছুটা বেকুফ হয়ে গেলাম। নিজের উপর খুব রাগ হলো কেন যে ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলাম!  
এক বান্ধবী কে ফোন দিলাম, ও জানালো যাত্রাবাড়ির অবস্থা ভয়াবহ!  একটা নিরিহ ছেলে ছোটবেলা থেকেই শাক বিক্রি করত। ছেলেটা রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে আর পুলিশ ওর ঘাড়ে গুলি করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষও অনেক মারা গেছে।শুনে খুব খারাপ লাগলো।  ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আরেকজন কে কল করতেই তিনি কেটে কলব্যাক করে জানালো নির্বাহি নির্দেশে দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
টিভির সামনে দাঁড়ালাম। ওমা একি পাওয়ার অফ! তারমানে টিভিও গেছে? সুইস এর দিকে চোখ পড়তে দেখি অফ। পাওয়ার অন করলাম।এখন রিমোট খুঁজে পাচ্ছি না,আবার রিমোট পেলাম তো ব্যাটারী নেই। মেজাজটা কেমন লাগে।ব্যাটারীও পেলাম কিন্তু ড্যামেজ। অনেকক্ষণ হাতে ঘষে ঠিক করে চ্যানেল চেঞ্জ করতেই বিটিভি এলো। এখনে স্কুল বিতর্ক হচ্ছে। এটি ঘোরাতেই দেখি, বৈশাখী টিভতে ফেরদৌস শাবনূরের সিনেমা চলছে। স্ক্রোল ডাউনে চোখে পড়লো: 
ব্রেকিং নিউজ- সর্বোচ্চ আদালত কোটা মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। ছোট বেলায় বিটিভি দেখার সময় ঝিরিঝিরি করলে যেমন বাইরে বেরিয়ে এন্টেনা ঘুরাতাম! ঐ রকম জানালার কাছে গিয়ে ডিসের তার ধরে টানাটানি করতেই টিভর স্ক্রিন অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে গেল। মেধায় সরকারি চাকরি হবে ৯৩% নিউজটি দেখে মনটা ভরে গেলো। অন্যান্যদের মধ্যে ৭% বিভিন্ন কোটায় অগ্রাধিকার পাবে।
সরকার- প্রয়োজনে কোটার পরিমাণ বাড়াতে-কমাতে পারবে।পুরো নিউজ দেখতে চ্যানেল ঘুরালাম।
>মাইটিভিতে একই ব্রেকিং নিউজ। কোটা ইস্যুতে হাইকোর্টের রায় বাতি করেছে আপীল বিভাগ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরার অনুরোধ। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৯৩%,মুক্তিযুদ্ধা ৫%,অন্যান্য ২%, অবিলম্বে সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ। প্রাণহানীর ঘটনায় আপীল বিভাগের দুঃখ প্রকাশ। রায়ে শিক্ষার্থদের আশার প্রতিফলন হয়েছে - এটর্ণি জেনারেল। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে- বৈষম্যবিরুধী ছাত্র আন্দোলন। 
>এটিএননিউজেও সেইম ব্রেকিং নিউজ। কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল আপিল বিভাগে। ৯৩% মেধা, ৫% মুক্তিযুদ্ধ পরিবার, ১% প্রতিবন্ধি ও তৃতীয় লিঙ্গ, ১% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী । আজই পরিপত্র আকারে জারির নির্দেশ।সরকার চাইলে কোটা সংস্কার করতে পারবে। আপীল বিভাগের রায়ে সন্তুষ্ট এটর্ণি জেনারেল। 
এটর্ণি জেনারেল আপীল বিভাগের রায়ে সন্তুষ্ট তারমানে ছাত্রদের আন্দোলন সঠিক ছিল,যৌক্তিক ছিল। আপনারা যারা এই আন্দোলনকে অপব্যাখ্যা করে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করেছিলেন, তারা কি এখন আপীল বিভাগের এই রায়ে একমত পোষন করবেন? নাকি দ্বিমত?  অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
যারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে বাহবা দিয়েছিলেন তারা ছাত্রলীগকে দেশের মানুষের কাছে জঘন্য রপে পরিচিত করেছেন। ছোটরা ভুল করলে শুধরে দিতে হয় তা না করে, ছাত্রলীগ কে পঁচিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রলীগকে আতংকলীগে পরিণত করেছেন।
আর যারা বলবে তারা কোনো অপকর্ম করেনি,সে কথার কোনো ভিত্তাি নেই। আমার নিজের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ আছে।ছাত্রলীগ কি করেছে আমি  নিজেই একদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম।
দলের প্রয়োজনে ছাত্র লীগ সহ; অঙ্গ সংগঠন গুলোকে ব্যবহার করা যেতে পারে তাই বলে জাতীয় ইস্যুগুলোতে কেন? একটি ছাত্র সংগঠনের কাজ কি? তাদের নৈতিকতা ঠিক রাখা।ছাত্রদের  অধিকার সংরক্ষণ করা। নিজেদের বা বিভিন্ন প্রয়োজনে একে অপরকে সাহায্য, সহযোগিতা করা। কিন্তু তাদেরকে লাঠিয়াল বাহিনী বানিয়ে ফেলেছেন। 
এই যে এতগুলো নিরীহ, নিষ্পাপ, কোমলমতি প্রাণ হারালো তাদের খুনিদের চিহ্নিত করে ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা আবশ্যক। শিক্ষার্থীদের অন্যান্য যৌক্তিক  দাবীগুলো মেনে নেয়া প্রয়োজন। 
★২২.০৭.২০২৪
সকালে টেলিভিশনের সামনে বসলাম বাংলাদেশের খবরাখবর জানতে।
ব্রেকিং নিউজ দেখে নিলাম। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বলবৎ থাকবে কার্ফিউ।কোটা নিয়ে আপীল বিভাগের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মঙ্গলবারের মধ্যে জারি হওয়ার সম্ভাবনা 'পরিপত্র'। কমপ্লিট শাটডাউন তুলে নিলো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন -  সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সারাদেশে নাশকতা চালিয়েছে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র বিরোধী অপশক্তি- বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জন প্রসাশন মন্ত্রী বলেন: নির্বাহী নির্দেশে আগামীকালও (মঙ্গলবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। যাত্রাবাড়ি,কদমতলী,বনানী, রামপুরা সহ আট থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। সড়কে টহল নিচ্ছে সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে সশস্ত্র বাহিনী।সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনীর সাথে পুলিশ, র ্যাব ও বিজিবি একযোগে কাজ করছে। সারাদেশে সহিংসতা প্রতিরোধে বাধ্য হয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আসলে এই কার্ফিউ এবং সেনা মোতায়েন দেশের জন্য এই মুহূর্তে খুব জরুরী ছিল। এই সহিংসতায় শুধু ছাত্রদের প্রাণহানী হয়েছে তা নয়, সাধারণ মানুষ, পুলিশ মৃত্যু সহ দেশের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এই ধরনের সহিংসতা কারোরই কাম্য নয়। ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা সহিংসতা করেছে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করেছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। তবে এতদূর গড়াতে সুযোগ দেয়া ঠিক হয়নি। ছাত্রদের সাথে বসে, আলোচনা করে আরও আগেই নির্বাহী নির্দেশে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। তাহলে সুযোগ সন্ধানীরা এত অনিষ্ট করার সুযোগ পেত না। ছাত্ররা অনেকেই বুঝে বা না বুঝে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। আজ অকালে ঝড়ে গেল অনেকগুলো মেধাবী প্রাণ যারা ছিল আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ। সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
কালবেলার নিউজে দেখা গেলো, ২২ তারিখ বিকেলবেলা নান্দনিক এলকা হাতির ঝিলের পাওয়া গেছ প্রায় ১০০ ছাত্রের মর লাশ। আল্লাহ  সহায় হোন।
২০০৯ থেকে আজ অব্ধি যতগুলো প্রজন্ম বেরিয়েছে তারা কিন্তু জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে বিশ্বাসী ছিল। এই যে রাস্তায় নামা লাখো লাখো শিক্ষার্থী তারাও কিন্তু এর ব্যতিক্রম ছিল না। তারা কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনের মূলবান ভোটার ছিল।কারণ এদের বয়স তের থেকে উনিশ প্লাস। আজ বুঝে হোক না বুঝে হোক ওরা কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে গিয়েছে। আর ওরা এখন এটা উপলব্ধি করে বাড়ি ফিরেছে যে, পুলিশ তাদের উপর গুলি চালিয়েছে, সরকারের নির্দেশে। এটাই এখন তাদের বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গিয়েছে। এই আন্দোলনের ভিতরে যে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র বিরোধী অপশক্তি ঢুকে গিয়েছিল এবং এই কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরা যে তাদের দ্বারাও আক্রান্ত হয়েছে এটা কিন্তু তারা বোঝার ক্ষমতা রাখে না। কারণ তারা রাজনীতি বোঝে না। এখনো পলিটিক্স বোঝার ক্ষমতা অনেকেরই হয়নি। ওরা চোখ দিয়ে যা দেখে সেটাই বিশ্বাস করে। 
যে দাবী আজ মেনে নেয়া হয়েছে সে দাবী উত্থাপিত হওয়ার সাথে সাথে মেনে নিলে দেশে এত ধ্বংসযজ্ঞ হতো না। সরকার যদি প্রথমেই সতর্ক হতো তবে দেশে এত অরাজকতা সৃষ্টি হত না। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা সুযোগের সদ্ ব্যবহার করতে পারতো না। শিক্ষা মন্ত্রী বলেছিল ছাত্ররা যা চাইবে তাই মানতে হবে নাকি? আজ তো সবই মেনে নিলেন। আরোও আগেই এই দাবী মেনে নিলে এই অবস্থায় দেশবাসীকে পড়তে হত না।
★২৩.০৭.২০২৪ মঙ্গলবার 
ছেলে মেয়েরা মেবাইলের নেশায় এতটাই মত্ত থাকতো যে মনে হত এটাই তাদের একমাত্র পেশা।আজ বেশ কয়েক দিন হলো ইন্টারনেট কানেকশন নেই। প্রথম দু'দিন হাশপাশ করেছিল। আম্মু নেট কখন আসবে?  আম্মু নেট আসে না কেন? আম্মু তুমি না আওয়ামিলীগ করো তোমাদের সরকার নেট একসেস দেয় না কেন?
এসব প্রলাব বকে এখন শান্ত হয়ে গেছে।বড় মেয়ে হাতে গল্পের বই তুলে নিয়েছে। ছোট মেয়ে পড়েপড়ে ঘুমাচ্ছে আর ছেলে টিভিতে কার্টুন দেখছে। আমি এত স্বস্তি পাচ্ছি যে বলে বোঝানোর ভাষা পাচ্ছি না। এই পরিবেশ দেখার জন্য আমি গত পাঁচ বছর যাবৎ অপেক্ষা করছিলাম। ২০২০ এর করোনা মহামারিতে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা হাতে ডিভাইস পেয়ে গেছে।তাই তারা এখন এক মিনিটের জন্য মোবাইল হাত ছাড়া করতে রাজি নয় । মোবাইল জোর করে নিয়ে গেলে বলবে মোবাইলে আমাদের পড়া আছে। স্কুল, কলেজ থেকে সমস্ত পড়া গ্রুপে সেন্ড করা হয়।কিন্তু কেন? ক্লাস শেষে ক্লাসের পড়া ক্লাসে দিয়ে দেয়া যায় না? অথবা যে কোন ইনফরমেশন গ্রুপে জানাতে হবে কেন? স্কুল কলেজের নেটিশ বোর্ডে দেয়া যায় না? আগে কি দেয়া হত না? 
আমরা ফোন,ডিভাইস ছাড়া লেখাপড়া করে আসিনি?শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মোবাইল ব্যবহার তুলে নিলে  জাতি বিরাট ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেত।। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইন্টারনেট কানেকশন রেখে সারারাত বন্ধ রাখলে এই জাতির ভবিষ্যৎ ভালো হবে। নতুবা দশ বছর পর বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বেশি মস্তিষ্ক, কান আর চক্ষু হসপিটাল নির্মাণ করতে হবে।
আর এক অভিভাবক ফোন করে জানালো নেট না থাকার উপকারিতা তার সন্তান তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাচ্ছে। আমাকে এক ফেন্ড জানালো নেট থাকলে ছেলে একদিকে,মেয়ে এক কোনায়, বৌ একপাশে স্বামী ছোফায়, এমনকি কাজের মেয়েও কাজ ফাঁকি দিয়ে রান্না ঘরে মোবাইল টিপে।চুলায় রান্না পুড়ে জ্বলে যায় খবর থাকে না।  পুরো পরিবারে এত অনিয়ম ২০২০ এর আগে ছিল না। এখন ইন্টারনেট কানেকশন না থাকায় পারিবারিক বন্ধনগুলো ফিরে এসেছে। 
শুধু মাত্র টুয়েন্টি ফোর আওয়ার ইমেইল একসেস রেখে সমস্ত অ্যাপস রাতে অফ রাখা উচিৎ। কার্ফিউ দিয়েও সরকার ভালোকাজ করেছে ছেলেমেয়েদের ঘরে আটকে রাখা গেছে। প্রতিটি কাজের যেমন মন্দের চিত্র রয়েছে তেমন ভালোর চিত্রও আছে।।

নেট নেই। বাসার বাইরে থেকে হঠাৎ হঠাৎ প্রচন্ড  রকমের বিকট শব্দ পাই, পাই হেলিকপ্টার আর ড্রোনের শব্দ।  ভয়ে বুক কেঁপে উঠে। আল্লাহ জানেন দেশের প্রতিটি এলাকায় কি চলছে? আল্লাহ যুগে যুগে বহ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ইসলামী কিছু বক্তাদের বয়ান মনে পরে গেলো। ফেরাউন, নমরুদ টিকতে পারেনি, আদ জাতি টিকতে পারেনি, সামূদ পারেনি,নূহ এর কওম টিকতে পারেনি,কওমে লূত টিকেনি,কওমে মাদিয়ান, আসহাবুল আইকা টিকতে পারেনি আমরা কোন খেত কি মূলা যে আমরা এত অন্যায় জলুমের পর আল্লাহ রহমতের বাগিচা পেয়ে যাবো? যখন কোন সমাজে বেভিচার, নষ্টামি বেড়ে গিয়েছে নতুবা রাষ্ট্রের অন্যায় অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে অথবা সামাজিক অবক্ষয় : সুদ,ঘুম বিশদভাবে বেড়ে গেছে সে জাতির উপর আল্লাহ তায়ালার গজব নেমে এসেছে। আমরা জানিনা আমাদের বরাতে কি আছে ধ্বংস না কি অন্যকিছু। জানিনা গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো কিনা? এমন একটা সময় দেখতে পাবো আমরা কখন ভাবিনি। 
>যদিও নব্বইয়ের স্বৈরশাসকের শোষণ উৎপীড়নের নমুনা দেখেছিলাম। যদিও তখন কিছু বুঝতাম না তবে মনে আছে সবই পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, আওয়ামী লীগ অফিস লোকে লোকারণ্য, ছাত্র সমাজ তখনো সোচ্চার ছিল। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল সারাদেশ। 'গনতন্ত্র মু্ক্তিপাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক।'
আমিও সেই দলে শরীক হতে পেরেছিলাম সেইদিন, যদিও বয়সটা খুব অল্প ছিল বুঝতামনা স্বৈরাচার কি, নিপাত যাওয়া মানে কি? তবুও সবার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ছিলাম। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে কঁচি কন্ঠে স্লোগান দিয়েছিলাম। প্রেসিডেন্ট এরশাদের পদত্যাগ এবং গণতন্ত্রের দাবিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সচিবালয় অবরোধের ডাক দিয়েছিল বিরোধী দলগুলো। অবরুদ্ধ নগরীতে সেদিন রাস্তায় নেমেছিল এক তরুণ, নূর হোসেন। তার বুকে পিঠে স্বৈরতন্ত্রের পতন আর গণতন্ত্রের দাবিতে লেখা শ্লোগান ছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আগে তোলা নূর হোসেনের ছবি পরবর্তীকালে হয়ে উঠে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার প্রতীক।জনগনের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আমরা ৯০ সালে গণআন্দোলন করেছিলাম। আমি (১০) জানতাম না কিভাবে শহীদ হয়? নূর হোসেন ও ডাঃ মিলন শহীদ হয়েছিলেন ওই আন্দোলনে। আজ থেকে ৪ দশক আগে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের পর মহান গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা এরশাদের পতন হয়েছিল। সে আন্দোলনে প্রায় ৩৭০ জন জীবন দিয়েছিলেন, পঙ্গু-গুম হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। হরতাল হয়েছিল প্রায় ১ বছর ৩২৮ দিন! অবরোধ হয়েছিল ৭০ দিন। জাতীয় সম্পদ ও আর্থিক ক্ষতিও হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এরশাদ স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে এক বড় অর্জন ও অনন্য ইতিহাস। ইতিহাস কিন্তু বলে কিছু মূলবান জীবনের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনই সফল হয়। 
>বড় মামার হাত ধরে সেইদিন যাত্রাবাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে গিয়েছিলাম। শুধু আমি একা নই খালাতো বোনেরাও সাথে গিয়েছিল। তখন বিশ,ত্রিশ  টাকায় অনেক বড় প্যাকেট ভর্তি বাদাম কেনা যেত। মেইন রাস্তার উপর আসন গেড়ে বসেছিলাম। মাথার উপর ছিল রৌদ্র ছায়ার খেলা। এখনকার মত এত তীব্র দাহ ছিল না তখন। প্যাকেট থেকে বাদাম নিয়ে খাচ্ছিলাম আর স্লোগান দিচ্ছিলাম। ছোট বেলা আমার সর্দি সমস্যা ছিল।মা বের হওয়ার সময় হাতে রুমাল ধরিয়ে দিয়েছিল।কিন্তু ভীরে কখন কোথায় পড়ে গিয়েছিল বলা মুশকিল। নাক দিয়ে সর্দিপানি বের হচ্ছিল উপায় না পেয়ে বাদামগুলো রাস্তার উপর ঢেলে প্যাকেট ছিড়ে নাক ঝেড়ে যেই ফেলেছি অমনি একদল স্লোগান দিতে দিতে আমাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তাদেরই একজনের পায়ে গিয়ে নাকের সর্দিপানি আর প্যাকেটের ছেড়া অংশ আরেক দিকে ছিটকে পড়লো। লোকটা নিচের দিকে তাকাতেই পিছনের ধাক্কায় সামনে চলে গেল। আমকে কিছু বলার সুযোগ পেলো না। আমার খালাতো বোন পলি বললো, ব্যাটা ধাক্কা সামলে যদি ফিরে আসে তোমাকে মাথায় তুলে একটা আছাড় দিবে। আমার বোনটি বয়সে আমার ছায় মাসের ছোট অথচ কথা বলে ছত্রিশ বছরের বড়দের মত।আর আমি বোকাসোকা ওর কথা বিশ্বাস করে সাইড থেকে উঠে পপি আপার পাশে এসে বসলাম। আমাদের সাথে আরও অনেক আন্দোলনকারীরা এসে যুক্ত হয়েছিল। তারা অনেকে আমার বড় মামার পরিচিত আবার অচেনা মানুষও ছিল। 
২৪.০৭.২০২৪
ব্যাংক, অফিস আদালত, এয়ারপোর্ট সহ সব জায়গায় ইন্টারনেট ছাড়া সকল কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ায় 
আজ ইন্টারনেটে কানেকশন ফিরে এলো। তবে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ সহ স্যোসাল মিডিয়ার অনেক সার্ভারই ডাউন রাখা হয়। ছেলেমেয়েরা এত্তো খুশি হলো যেন আকাশের চাঁদ পয়ে গেছ। এই কয়েক দিনে গুলাগুলি, কার্ফিউ, সবমিলিয়ে অনেক বাচ্চারাই এখন ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে। এখন আর মুখে কোনো শব্দ নেই। যাইহোক ওরা ভিপিএন কানেক্টেড করে দেয়ায় স্যোসাল মিডিয়া ইউজ করা যাচ্ছে। আমি ফেসবুকে ঢুকে এই ক'দিন ঘটে যাওয়া অনেক যানা অজানা পোস্ট, ভিডিও দেখে বিহ্বল হয়ে গেলাম। আসলে কি লিখবো, কত লিখবো? লিখার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ তুমি হেফাজত করো আমাদের সন্তানদেরকে।
২৫.০৭.২০২৪
ফেসবুক, ইন্সট্রা,টুইটার এবং বিভিন্ন পেইজ এর পোস্ট  এবং কমেন্টস থেকে- 
বহির্বিশ্বের বিভন্ন বন্ধু বান্ধব ফোন দিয়ে জানতে চাচ্ছে তাদের প্রিয় দেশের খবর। তারা শেয়ার করছে তাদের উৎকন্ঠা!  তাদের পরিবার পরিজনদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারার হতাশা, ক্ষোভ। ছাত্র সমাজকে ধ্বংস করার বিরাট ষড়যন্ত্র! নীলনকশা! ছাত্র সমাজকে উসকে দিয়ে দেশকে বিরাট গহ্বরে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা। অনেকের ভাই আজ নিহত হওয়ায় হয়ত মাথা কাজ করছে না তাই কি বলতে কি বলছে!
আজ তাদের শহীদ ভাই বোনদের রক্ত ও আত্মার শপথ করে বলছে, আমদের রেমিট্যান্স এর টাকায় দেশ চলছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, এই পুলিশ, আর্মির জীবন জীবীকা, আহার চলছে আর ওরা আমার ভাইদের পাখির মত গুলি করে মারছে? 
#ছাত্রদের পোস্ট থেকে:
>নেটওয়ার্ক যখন স্বাভাবিক করবে, তখন দেখবেন আমরা এক নতুন জগতে আছি!কারো বোন নেই,কারো ভাই নেই,কারো বাবা নেই কত স্বজন চলে গেছে ওপারে। হে আল্লাহ আমার বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।
>সন্তানের অপেক্ষায় বসে আছে মা,তার খোকা কবে ফিরবে? কিন্তু মা ' জানে না পা-চাটা নমরুদের উত্তরসূরীরা তার কলিজার খোকাকে হত্যা করেছে। হসপিটালের বিছানায় শুয়ে সন্তান প্রিয় মাকে শান্তনা দিচ্ছে আমার জন্য চিন্তা করো না আমি ভাল আছি। আশেপাশ থেকে স্যালাইন ধরে রাখা বন্ধুদের ইশারা দিচ্ছে কোনো শব্দ না করতে কারণ তার মা যেন কিছু আঁচ করতে না পারে।
>নেটও এলো, কোটার রায়ও এলো কিন্তু আমার মায়েরা এখনো কাঁদছে কেন? এমন হোমপেইজ তো আমি চাই নাই। শোক আর শোক! দিন শেষে সত্য একটাই যার গেছে সেই বুঝেছে! তোমাদেরও মা' আছে! নিজের চাকরির অধিকার চওয়াতে হাজার হাজার মায়ের সন্তান কেড়ে নিলে।
>হাজার হাজার মায়ের বুক শূন্য করে, তোমরা পোস্ট করো; ইন্টারনেট মোবারক! কেমন কাটলো নেট ছাড়া?  মনে হয় ঈদের ছুটি!                                         নির্লজ্জ! মনে রেখো অনেক অত্যাচারী স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। তোমাদের ও হবে ইনশাআল্লাহ। তোমাদের প্রতি হাজারো মায়ের অভিশাপ!
>তোমরা যদি জমিতে জুলুম লেখো, আসমানের ইনকিলাবে তার হিসাবে  লেখা হবে।
>আজ নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানি হানাদার!          তবু কেন এত রক্ত, এত মায়ের বুক ফাটা হাহাকার! আজ তবে কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা?               আমারা কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার কথা!
>বুয়েটের আবরার মুহুরি নদীর পানি বন্টন নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ফেসবুকে দুলাইন লিখেছিল তাকে জামাত-শিবির,রাজাকার বলে পিটিয়ে মারলো ছাত্রলীগ। আবরারতো সেদিন কোনো আন্দোলন করেনি শুধু তার মত প্রকাশ করেছিল।
>গত রমজানে ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে তাদের মৌলবাদ বলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল ছাত্রলীগ। তখন তো তারা কোনো আন্দোলন করেনি তবুও তারা কেন রক্তাক্ত হলো। মতের অমিল হলেই রাজাকার!  মৌলবাদ! রাজাকার কাকে বলে দেশের মানুষ এখন ভালো করেই জানে।
>এই লড়াইটা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক নয়, সমাজ,রাষ্ট্র বিরোধী নয়। শুধু ছাত্র ছাত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
>এক মায়ের আর্তনাদ! বাড়ি ফিরে আয় বাপ, পড়াশোনা করা লাগবো না, চাকরিও লাগবো না! ক্ষেতে কামলা দিয়া খাবি!
>যারা আন্দোলনে যেতে পারোনি বাসায় বসে লিখে আমাদের উৎসাহ দিচ্ছো নিজেকে ছোট মনে করো না।কারণ কাজী নজরুল ইসলামকে মাঠে নামতে হয়নি।তার কলমের তীব্র ভাষায় বৃটিশরা অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল।
>যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ!
>

২৫.০৭.২০২৪
>সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা শহীদ ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সমবেত হয়ে স্লোগান  দিচ্ছে :                                রক্তে আগুন লেগেছে,  লেগেছে লেগেছে।                      রক্তের বন্যায়, ভাসিয়ে দেবো অন্যায়                           দফা এক দাবি এক, আমার ভাইয়ের রক্ত               বৃথা যেতে দেবো না। আমার বোনের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না।
>একটি অনলাইন ভিডিও ফুটেজ থেকে- নেপালের নাগরিক রাস্তা আটকে বাংলাদেশের ছাত্রদের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে, রাদাকার রাদাকার! থরকাক থরকার!
যদিও রাজাকার, সরকার শব্দটি ওদের মুখে স্পষ্ট উচ্চারিত হচ্ছিল  না।
>বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে উত্তাল কলকাতার রাজপথ।            SSTV PUBLIC,  কলকাতা, ভারত। 
>We stand for our brothers & sisters. Please stop this violence stop. Don't kill our talents.we are all miles away but we are with you. 'Students Association Uk'
>১৯৬১,২৭ জুন একটি চিঠি থেকে জানা যায়-    নেহেরু বলেছিলেন,'আমি কোনো রুপে সংরক্ষণ  পছন্দ করি না। বিশেষ করে চাকরিতে সংরক্ষণ, আমি এমন কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যা অদক্ষতাকে প্রচার করে। 'কলকাতা নিউজ'। কলকাতা নিউজ আরও জানায়, সুপ্রীম কোর্টের রায় বলা হয়েছে, কোন রাজ্য চাইলে ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দিতে পারে তবে তা হতে হবে গ্রহণযোগ্য ব্যখ্যার ভিত্তিতে।কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তরে সে সুযোগ এখনো পর্যন্ত নেই।
#২০২৪ ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিনির্মিত গান
>জেগেই যখন উঠেছ বন্ধু, খা 
>মনে রেখো যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি৷                 দেশ দেশ বাঁচাতে রক্ত দিতে রাজি আছি।       
>একটি  ছা**গ তুমি জাগ্রত জানোয়ার৷                          সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি বাঙলার কুলাঙ্গার! 








Comments