★একজন মফিজের মফিজ হয়ে উঠা★

গাইবান্ধায় একজন গরিব ড্রাইভার ছিলেন, যিনি তাঁর সঞ্চিত পুঁজি এবং পৈত্রিক বসতবাড়ি বিক্রি করে ঢাকা-গাইবান্ধা-ঢাকা রোডে চলাচলের জন্য একটি পুরাতন বাস ক্রয় করেন এবং নিজেই ওই গাড়ির চালক ছিলেন।

তিনি গাইবান্ধার মানুষ তথা উত্তরবঙ্গের দিনমজুর ও শ্রমজীবী তথা সকল মানুষকে স্বল্প ভাড়ায় ঢাকা-গাইবান্ধা-ঢাকা যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেন।

কয়েক বছর পরে বয়সের ভারে উনি যখন ক্লান্ত তখন তিনি পুরাতন বাসটা বিক্রি করে একটা নতুন বাস কিনেন এবং চালক হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগ দেন। নতুন চালক সকল যাত্রীদের কাছ থেকে সমান ভাড়া আদায় করেন। তখন রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধা অঞ্চলের মানুষ বৃদ্ধ ড্রাইভার এর কাছে অনুরোধ করেন ভাড়া কিছুটা কমিয়ে নেয়ার জন্য।

তখন এই বৃদ্ধ ড্রাইভার অর্থাৎ গাড়ির মালিক একটা টোকেনের ব্যবস্থা করেন।যাতে লেখা ছিল "মফিজ "।

মানে যার কাছে মফিজ লেখা টোকেন থাকতো, নতুন গাড়ির সুপারভাইজার তার ভাড়া কম নিতো। তাই মাঝে মাঝে গাড়ির ছাদে কয়জন মফিজ লেখা টোকেনধারী আছে তা জানার জন্য গাড়ির ভেতর থেকে সুপারভাইজার জোরে ডাক দিয়ে সংক্ষেপে জিজ্ঞেস করতেন,'এই ছাদের উপর মফিজ কয়জন আছে?

ভাবা যায়!মফিজ ভাই কত সহজ-সরল, উদার, মানব দরদি সর্বোপরি পরোপকারী ছিলেন! কত নির্মল মনের মানুষ ছিলেন।এখন কি খুঁজে পাওয়া যায়- এমন মানব দরদি কোন মফিজ!আজকাল সত্যিকারের মফিজের বড় অভাব। সম্পত্তি আর প্রভাব-প্রতিপত্তির অসহনীয় প্রতিযোগিতার এই দিনে সত্যি মফিজদের বড্ড অভাব।

জানি না উপরোক্ত গল্পটি কতটা অথেনটি। মফিজকে নিজের নাম নিয়ে মাঝে মাঝে বেশ বিব্রত হতে হয়। ইউনিভার্সিটিতে বন্ধুরা এই নাম নিয়ে অতিরঞ্জিত করে ফেলে।  তখন বন্ধুদের ডেকে তার নামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে গল্পটি ওর থেকে শোনা।তার উপর সে নিজেই গাইবান্ধার মানুষ। তাই নাম ও জেলা নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই।


Comments