★নবী কখন থেকে নবী★
নবীজি কি নবুয়তের পূর্বে নবী বা রাসূল ছিলেন❓
এ বিষয়ে জনাব আহমাদউল্লাহ সাহেবের একটা বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হচ্ছে।
তিনি বলেছেন যে, ৪০ বছর বয়সে নবীজি নবুয়ত লাভ করেছেন অর্থাৎ ৪০ বছর বয়সে নবীজি নবী এবং রাসূল হয়েছেন।
অনেকেই এই বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন।তার মধ্যে মাজার পূজারী বক্তা তাহেরি অন্যতম। বিরোধীদের বক্তব্য হচ্ছে, রাসূল (স:) জন্ম থেকেই নবী-রাসূল ছিলেন।
আল্লাহ যখন তাহেরির রূহ সৃষ্টি করেন, তাহেরি কি সেই থেকে তাহেরি, নাকি তার জন্মের পর তার নাম রাখার পর সে তাহেরী হয়েছে, আমরা সবাই জানি আল্লাহর রাসূল পৃথিবীতে আসার আগে আল্লাহ তার নবীর রুহ সৃষ্টি করেছেন তাকে নবী হিসেবে দুনিয়াতে পাঠাবেন, কিন্তু মানুষ কখন জানলো সে আমাদের শেষ নবী, মানুষ তখনই জানলো তার ৪০ বছর বয়সে, আল্লাহ তার উপর যখন ওহী নাজিল করলেন এবং মানুষকে সত্যের পথ দেখালেন ,তখন থেকে মানুষ জানতে পারল যে, সে আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ, সবাই তখন তার মাধ্যমে সত্যের পথ খুঁজে পেল।অর্থাৎ নবীজী জন্মের আগে নবী ছিলেন কিন্তু নবুয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন ৪০ বছরে।এই নবুয়ত প্রাপ্তির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ব বাসির নিকট নবী হিসেবে পরিচয় করে দিয়েছেন। নবীজীর উপর আল কোরআন নাজিল করেছেন ৪০ বছর বয়স থেকে।
দেখা যাক, আল্লাহপাক এ সম্পর্কে কী বলেছেন!
মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন :
وَوَجَدَكَ ضَآلًّا فَهَدٰى
অর্থ : তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
সুতরাং ৪০ বছর বয়েসের আগে নবী হলে, পথ না পাওয়া অবস্থায় থাকবে কেন?
মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন " সূরা: আশ-শূরা, আয়াত: 52
وَكَذٰلِكَ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَاۚمَا كُنتَ تَدْرِى مَا الْكِتٰبُ وَلَا الْإِيمٰنُ وَلٰكِن جَعَلْنٰهُ نُورًا نَّهْدِى بِهِۦ مَن نَّشَآءُ مِنْ عِبَادِنَاۚوَإِنَّكَ لَتَهْدِىٓ إِلٰى صِرٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
অর্থ : এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেশতা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না, কিতাব কি এবং ঈমান কি? কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যাদ্দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন-
অর্থাৎ নবুয়তের পূর্ব পর্যন্ত নবীজি ঈমান সম্পর্কে, ইসলাম সম্পর্কে, কোরআন সম্পর্কে জানতেন না। এবং এটাই স্বাভাবিক।
মহান আল্লাহপাক আমাদের প্রিয় নবীজি মোহাম্মদ মোস্তফা (স:)-কে জন্ম থেকেই পরবর্তী রাসূল হিসেবে তৈরি করেছেন,
সেভাবেই তাকে পরিচালিত করেছেন, যাতে তিনি অনুসরনীয় আদর্শ হোন।
"নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূল (সঃ) এর মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।"
(সূরা- আল আযহাব, আয়াত-২১)
এই "সর্বোত্তম আদর্শ" যে শুধু নবুয়তের পরের জীবনের, তা কিন্তু না। বরং রাসূল (সাঃ) এর পুরো জীবনটাই আমাদের জন্য আদর্শ। কারণ মহান আল্লাহপাক তাকে সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন।
অতঃপর ৪০ বছর বয়সে মহান আল্লাহপাক তাকে নবুয়ত দান করেন অর্থাৎ নবী ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করেন।
উল্লেখ্য যে, নবুয়ত পাওয়ার আগে নবীজি মিল্লাতে ইব্রাহিম এর উপর বিশ্বস্ত ছিলেন, অর্থাৎ তিনি কখনো শিরক-কুফরি গ্রহন করেননি, কোন পাপাচারে জড়াননি।
সুতরাং আহমাদউল্লাহ সাহেবের বক্তব্য ১০০% সঠিক, এবং এতে নবীজি শান-মান কোনটাই কমে না।
যারা আন্দাজে কথা বলে তাদের ব্যপারে আল্লাহপাক বলেন,
"ধ্বংস হোক তারা, যারা আন্দাজে কথা বলে"
(সূরা- যারিয়াত, আয়াত-১০)
Comments
Post a Comment